ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে ভারতীয় মালিকানাধীন ‘কুসুম গ্রুপ’ পরিচালিত একটি স্বনামধন্য ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই সরাসরি হামলায় কারখানাটির মূল স্থাপনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার ছোড়া ড্রোনটি সুমির ওষুধ কারখানায় সরাসরি আঘাত হানার পর আকাশ ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। হামলায় কারখানার মূল অবকাঠামো ও মূল্যবান যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
১৯৯৪ সালে ইউক্রেনে ভারতীয় ওষুধ রপ্তানিকারক ও পরিবেশক হিসেবে ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু করে কুসুম গ্রুপ। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক রাজীব গুপ্তর দক্ষ নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি ইউক্রেনের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা হিসেবে পরিচিত।
প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, ২০০২ সালে নিজস্ব ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করে ২০০৭ সালে ভারতে প্রথম উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপন করে কুসুম গ্রুপ। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে ইউক্রেনের সুমি শহরে সর্বাধুনিক কারখানা চালু করে কোম্পানিটি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ৫০টিরও বেশি জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন করে ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করে আসছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন নিরবচ্ছিন্নভাবে ওষুধ সরবরাহ চালু রাখা এই কারখানায় রোববারের হামলায় প্রায় ৪০০ কোটি রুপির বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণায় বলা হয়েছে।
এদিকে বেসামরিক ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট অবকাঠামোয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। তার পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমার সমবেদনা।’
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট আরও জানান, একই দিনে রাশিয়ার কামিকাজে ড্রোনগুলো রাজধানী কিয়েভের পিভনিচনি সেতু এবং দিনিপ্রোর একটি যোগাযোগ কেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে, যাতে আরও অন্তত ছয়জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
ডিআর




Comments