Image description

দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম, ত্যাগ এবং আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল পটভূমি ও ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ’ আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, "সিরাজগঞ্জ থেকে এসে তরুণ ছাত্রনেতা শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ নিজের বুক পেতে দিয়ে রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। তাঁর সেই আত্মদান এবং দীর্ঘ ৯ বছরের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আপসহীন সংগ্রামের ধারাবাহিকতাতেই এরশাদের পতন ঘটেছিল।"

২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "চব্বিশের এই অভ্যুত্থান হুট করে একদিনে তৈরি হয়নি। মিথ্যা মামলা, কারাবাস ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন এবং প্রবাসে থেকেও দেশনায়ক তারেক রহমান যেভাবে সুদূরপ্রসারী ও সাহসী আন্দোলন পরিচালনা করেছেন—তারই চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে এই জুলাই বিপ্লব।"

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, "৯০-এর পরাজিত শক্তি আর ২৪-এর ফ্যাসিস্টরা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। বিগত ১৭ বছর ধরে এরা দেশকে তছরুপ করেছে, ব্যাংকগুলো খালি করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে এবং গুম-খুনের রাজনীতির মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এখনো প্রশাসনে ও বিভিন্ন স্তরে ফ্যাসিবাদের দোসররা ঘাপটি মেরে বসে আছে। যারা গুম-খুন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করা চলবে না।"

আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব প্রসঙ্গে নেতাকর্মী ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, "বাংলাদেশ আবহমানকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কিন্তু পরাজিত কোনো অপশক্তি যাতে আসন্ন পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সে জন্য বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি পূজামণ্ডপ পাহারা দিতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের উৎসব যাতে সম্পূর্ণ শান্তিময় ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।"

শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানুল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং ডাকসুর সাবেক জিএস খায়ারুল কবির খোকন ও এজিএস নাজিম উদ্দিন আলমের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ৯০-এর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এমপি, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, শিরীন সুলতানা এমপি, মীর সরাফত আলী সপু, সাইফ মাহমুদ জুয়েলসহ নব্বইয়ের সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

ডিআর