Image description

হিমালয়-ঘেরা নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও প্রায় দেড় হাজার মানুষের প্রাণহানির মাত্র দেড় মাসের মাথায় ফের এক তীব্র বিপর্যয় নেমে এসেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় গোরখা জেলায় এক আকস্মিক বন্যায় ৩৫টিরও বেশি ঘরবাড়ি, একাধিক ঝুলন্ত ও পাকা সেতু ভেসে গেছে এবং চিকিৎসাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, গোরখা জেলার চুম্নুবরি ও ধারচে এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বুধি গণ্ডকী নদীর (যা বিখ্যাত ত্রিশূলী নদীর অন্যতম উপনদী) পানির স্তর হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী নদীর ওপর উপনদী অববাহিকায় ভয়াবহ হিমবাহ ধসে ১,৪৫৭ জন প্রাণ হারান এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নদীটির পানি সম্পূর্ণ কালচে ও ধূসর বর্ণ ধারণ করেছে এবং প্রচণ্ড বেগে ঘন কাদা, বিশালাকার পাথর ও আবর্জনা নিয়ে লোকালয়ের দিকে ধেয়ে আসছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানায়, ঘটনার দিন সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে নদীর পানির গভীরতা ছিল ৩.৬৬ মিটার। কিন্তু অবিশ্বাস্য দ্রুততায় মাত্র দু’ঘণ্টার ব্যবধানে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে তা লাফিয়ে ৮.৪৩ মিটারে পৌঁছে যায়, যা ওই নদীর বিপদসীমার (৫ মিটার) অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। বিশেষ করে সকাল ৮:৩০ থেকে ৮:৪০—মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় নদীর পানির স্তর দুই মিটারের বেশি বৃদ্ধি পায়।

এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনডিআরআরএমএ বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে জানায়, "বন্যার তোড়ে আমাদের নদীর পানি পরিমাপ কেন্দ্র ও সংযোগ সেতুটি সম্পূর্ণ ভেসে যাওয়ায় সরাসরি উপাত্ত সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে।"

সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই আকস্মিক বন্যার নেপথ্যে কোনো বৃষ্টিপাত ছিল না। সংস্থাটির প্রাথমিক পর্যালোচনায় স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, উজানের কোনো পাহাড়ি ধসের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ সাময়িকভাবে রুদ্ধ বা 'আর্টিফিশিয়াল বাঁধ' তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে প্রচণ্ড শক্তিতে পানি নিচে নেমে এলে এই আকস্মিক প্লাবন ঘটে।

প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত কোনো প্রাণহানির খবর না মিললেও নদীর চরে থাকা অন্তত ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুধি গণ্ডকী ও ত্রিশূলী নদীর নিম্ন অববাহিকার বাসিন্দাদের রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদ দূরত্বে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। উপদ্রুত অঞ্চলে হেলিকপ্টার মোতায়েন করে নেপালি সেনাবাহিনী জরুরি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

ডিআর