Image description

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতো এত দেশপ্রেম আর কোনো রাজনীতিকের মধ্যে আমি দেখি নাই। তাঁকে সহযোগিতা করতে হবে। সামনে দুর্গাপূজা আসছে, এই পূজামণ্ডপে যেন কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সজাগ থাকতে হবে। কেউ যদি বিশৃঙ্খলা করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। শুধু নিজের সাফল্য নয়, অন্যের সাফল্যও আমাদের দেখতে হবে।"

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়ায় একটি রিসোর্টে সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, "বিগত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে ইশতেহার ঘোষণা করেছেন, সেই ইশতেহারের কাজগুলো এক এক করে করছি, কিন্তু এর জন্য একটু সময় প্রয়োজন। দেশের বিদ্যুতের সমস্যা হচ্ছে, গ্যাসের একটু সমস্যা হচ্ছে। কারণ বিগত সরকার এই কাজগুলো করে যাওয়ার পার্সেন্টেজ পায়নি। আমরা যে ৩৫টি বিমান কিনলাম, এজন্য অনেকেই বলছে বিলিয়ন ডলার খরচ করে বিমান কেনার দরকার কী? কিন্তু তারা জানে না এই বিমানগুলো আসতে অন্তত দশ বছর সময় লাগবে। আগামী ৩১ সালে এই বিমানগুলো আসা শুরু করবে, চলবে ৩৬ সাল পর্যন্ত। এই চিন্তাটা কেউ করেন না। আমাদের এখন যে বিমানগুলো আছে সেগুলো তখন অচল হয়ে যাবে, তখন কীভাবে চলবে বাংলাদেশ? এই চিন্তা ফ্যাসিস্ট সরকারেরও ছিল না, এখনও যারা বিরোধিতা করছে তারাও করে না।"

তিনি আরও বলেন, "বিমান শুধু ৩৫টা না, আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেভাবে উন্নত হচ্ছে, যেভাবে বিকশিত হচ্ছে, আমি চাই আমাদের দেশে বিমান থাকবে দুইশরও বেশি। একটা সময় আমরা থাকব না, আমাদের এই শিক্ষার্থীরা যারা বিদেশে গিয়ে নিজেদের বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে আমাদেরও বিমানবন্দর রয়েছে, আমাদের সেই বিমানের সংখ্যা হলো দুইশরও বেশি।"

এ সময় ময়মনসিংহে বিমানবন্দর স্থাপন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "আজকের অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এবং এমপিদের কাছ থেকে দাবি উঠেছে ময়মনসিংহে বিমানবন্দর করার জন্য। আমিও মনে করি, ময়মনসিংহে বিমানবন্দর হওয়া দরকার। একটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ত্রিশালের মতো জায়গায় যেন হয় সেই চেষ্টা করব। সে লক্ষ্যে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। বড় বিমানবন্দর করতে হলে একটু সময় দরকার।"

এ সময় ময়মনসিংহ অঞ্চলে পর্যটন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, "পর্যটন অনেক বড় ব্যাপার। এজন্য আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি একে একে করার জন্য। ময়মনসিংহের নেত্রকোনায় বিরিশিরি নামে একটি জায়গা রয়েছে। সেই জায়গা থেকে জাতীয় পর্যায়ে একটি ভালো পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার জন্য আমরা চেষ্টা করব, ইনশাল্লাহ। যাতে করে সমস্ত ময়মনসিংহের লোক বলতে পারবে যে আমাদের পর্যটনের একটা ভালো জায়গা আছে, যেটা বিদেশ থেকে লোক এসে পর্যবেক্ষণ করবে।"

ময়মনসিংহে একটি শিশুপার্ক নির্মাণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "আগামী ঈদের আগেই ময়মনসিংহে একটি শিশুপার্কের ভিত্তিপ্রস্তর সম্ভব। তবে দ্রুততার সঙ্গে এর নির্মাণকাজ করতে পারলে আগামী ঈদের মধ্যে সেই শিশুপার্ক আমরা দেখতে পাব। এছাড়াও ময়মনসিংহ বিভাগের উন্নয়নে যা যা করা যায়, আমরা তা করব। আমরা আর ময়মনসিংহকে অবহেলিত বিভাগ হিসেবে দেখতে চাই না।"

ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় হবে জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, "বর্তমান ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। এজন্য প্রয়োজন হলে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কথা বলব।"

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, "আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে একটি উন্নততর বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চান। তিনি একটি প্ল্যান নিয়ে এসেছেন, যে প্ল্যানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার মান এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা বঞ্চিত অবস্থায় আছেন তাদেরকে তুলে নিয়ে আসতে চান। এর জন্য শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা দরকার।"

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "নিজেদের সাফল্যের পাশাপাশি সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর ওপর নজর রাখবেন। তাঁদের দেখার জন্য সরকারিভাবে যে সহযোগিতা দরকার তা আমাদের ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে, খাল কাটার মাধ্যমে, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ করতে চাই। এর জন্য আপনাদের সহযোগিতা ও ভূমিকা থাকতে হবে।"

অনুষ্ঠানে সিটি প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি, ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু, ঈশ্বরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, ডিআইজি মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

পরে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। এতে প্রায় ১২০০ কৃতি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

ডিআর