দিল্লিতে বিক্ষোভ ও নির্বাচনী অনিয়ম
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আমার এখতিয়ারভুক্ত নয়: ভারতের প্রধান বিচারপতি
দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ ও নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা তাঁর এখতিয়ারভুক্ত নয় উল্লেখ করে বিরোধী নেতাদের বৈঠকের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি এবং সুপ্রিম কোর্টে এসে আইনি প্রক্রিয়ায় আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (এনএইচআরসি) ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।
সম্প্রতি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিরোধী দলগুলো। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহান্তে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং বিশ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনসহ ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আয়োজিত এই বিক্ষোভে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ নেতাসহ চার রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও হাজারো মানুষকে আটক করা হয়। এছাড়া বিক্ষোভের সঙ্গে সংগতি রেখে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে আটকের ঘটনাও আলোচনায় রয়েছে।
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র মিছিল এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার দাবি প্রসঙ্গে সূর্য কান্ত জানান, সুপ্রিম কোর্টের দরজা সবার জন্যই উন্মুক্ত। তবে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিরোধী নেতাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক বৈঠকে বসতে তিনি রাজি হননি। বিষয়গুলো ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন থাকায় প্রতিকার লাভের জন্য সরাসরি আদালতে আবেদন করতে হবে বলে জানান তিনি।
প্রধান বিচারপতি জানান, বৈঠকের অনুরোধ জানিয়ে আগের দিন তিনি একটি চিঠি পেয়েছিলেন এবং কেন ওই বৈঠকে বসা সম্ভব নয়, তা জানিয়ে রাতেই তিনি তার জবাব পাঠিয়েছিলেন। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি—যে কেউ প্রয়োজনে আদালতে আবেদন করতে পারবেন।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধীকে পাঠানো সেই চিঠির গোপনীয়তা বজায় রাখার কথা বললেও পরবর্তীতে কংগ্রেস তা নিজেদের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে। দুই পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, বিরোধীদের উত্থাপিত বিষয়গুলো আদালতের বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে কোনো বৈঠকে বসা সংবিধানের ক্ষমতার পৃথক্করণ নীতি লঙ্ঘনের শামান্তর হতে পারে। পাশাপাশি এসব বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার সুপ্রিম কোর্টের নেই।
তবে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদালত যেকোনো আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। বিরোধী নেতাদের যেকোনো সময় ই-ফাইলিংয়ের মাধ্যমে অথবা সরাসরি আদালতে আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, আবেদন পেলে আইন অনুযায়ী দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হবে।




Comments