আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
‘পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে হত্যায় জড়িত ৩ পুলিশ সদস্য’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ও কলেজ শিক্ষার্থী ইমাম হাসান তাইমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশেরই তিন সদস্য সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তথ্য তুলে ধরেছে প্রসিকিউশন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রসিকিউশন এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করে। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী যুক্তিতর্কের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই ঘটনার সময় পুলিশের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলেনি বা উসকানি দেয়নি। তা সত্ত্বেও পুলিশের সদস্যরা সম্পূর্ণ অহেতুক তাইমকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এমনকি গুলিবিদ্ধ তাইমকে এক ব্যক্তি উদ্ধার করার চেষ্টা করলে তাকেও পুলিশ গুলি করে, যার ফলে ওই ব্যক্তি জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে দৌড় দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সারা দেশে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ হিসেবেই সিস্টেমেটিক ও ওয়াইডস্প্রেড উপায়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের তৎকালীন ডিসি ইকবালের আলোড়ন সৃষ্টিকারী কথোপকথনের ভিডিও ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়, যেখানে বলা হয়েছিল— ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না’।
ভিডিও ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ৩ পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছে প্রসিকিউশন। তাঁরা হলেন— যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন এবং এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে যে, তারা সরাসরি গুলি চালাচ্ছেন এবং পলায়নরত মানুষকেও রেহাই দিচ্ছেন না। এই ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে দুই প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং অপর এক প্রয়াত সাক্ষীর জবানবন্দি বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিহত ইমাম হাসান তাইম রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে এবং নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজী নগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
এই মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট ১১ জন উচ্চপদস্থ ও মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান ও শাহাদাত আলী বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
ডিআর




Comments