আইন পেশায় যুক্ত কারও বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে, তিনি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আইন শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আইন পেশা শুধু জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠারও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। আইনজীবীরা মক্কেলের পক্ষে মামলা পরিচালনার পাশাপাশি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করেন এবং আইনের শাসন রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বলেন, একজন আইনজীবীর সাফল্য শুধু মামলায় জয়ী হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সততা, পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধই একজন আইনজীবীর প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারণ করে।
আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্বের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মক্কেলের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সত্য ও ন্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি। মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করা কিংবা ন্যায়বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করে মক্কেলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। পেশাগত জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য কোনো ধরনের অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করা উচিত নয়।
আইন পেশাকে ব্যবহার করে দ্রুত অর্থ-সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জনের চেষ্টাকারীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে কেউ পেশাগত সুবিধা নিতে চাইলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুপ্রিম কোর্টে কয়েকজন আইনজীবীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানান রুহুল কুদ্দুস কাজল। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন দায়িত্ব পালন করেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
‘এজিও-ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী এবং তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকসসহ অন্য অতিথিরা।




Comments