Image description

ভারতে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে বিতর্কের মধ্যে জীবিত এক ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ হিসেবে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। দিল্লির ৫৩ বছর বয়সী দর্জি কামতা প্রসাদকে নতুন ভোটার তালিকায় মৃত হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ৩৫ বছর ধরে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসা এই ব্যক্তি এখন নিজের জীবিত থাকার প্রমাণ দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম ফেরাতে সরকারি দপ্তরে ঘুরছেন।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে এমন ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে অসন্তোষ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ায় তারা ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে প্রায় ৪২ লাখ এবং দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম নতুন খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় নরেন্দ্র মোদি সরকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন বিরোধী দল ও ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দিতেই ভোটার তালিকায় কারসাজি করা হয়েছে। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছেন। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। জমির কাগজপত্র বা ইউটিলিটি বিল না থাকার মতো কারণে বহু পুরোনো ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এতে ভোটাধিকার হারানোর পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকি মূল্যে রেশনসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিতর্কের মুখে দিল্লিসহ কয়েকটি রাজ্যে বাদ পড়া ভোটারদের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভুক্তভোগীদের আপিল ও নতুন করে নিবন্ধনের সুযোগ থাকলেও দীর্ঘ শুনানি এবং প্রশাসনিক জটিলতায় তাদের ভোগান্তি বাড়ছে।

এনএ