Image description

ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে ঘটেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। কয়েক মাসের বকেয়া ভাড়া না পেয়ে ভাড়াটেকে না পেয়ে ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছিলেন বাড়িওয়ালা। কিন্তু ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তিনি যা দেখলেন, তাতে তাঁর চোখ কপালে ওঠার দশা। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কাগজ, বালতিতে ঠাসা টাকার বান্ডিল আর পাশে রাখা প্রিন্টার—পুরোদমে চলছে জালনোট তৈরির রমরমা কারখানা!

শনিবার (২৪ অক্টোবর) নাগপুরের ওয়াথোদা থানার খারবি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুষ্পক কৃষ্ণ ভান্ডারকর ওরফে বেনদানে নামের অভিযুক্ত ভাড়াটেকে খুঁজছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে নাগপুরের খারবি এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন পুষ্পক কৃষ্ণ ভান্ডারকর। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তাঁর ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর থেকেই তিনি বাড়িভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন।

বাড়িওয়ালা রমেশ বকেয়া ভাড়া চাইতে গেলে অভিযুক্ত পুষ্পক তাঁকে ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তখন ওয়াথোদা থানায় একটি অ-আমলযোগ্য অভিযোগ (এনসি) দায়ের করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটেকে ঘরের আশপাশে না দেখে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) হাতুড়ি দিয়ে নিজের ঘরের তালা ভাঙেন বাড়িওয়ালা রমেশ। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে মেঝেতে বিক্ষিপ্ত কাগজ ও বালতির মধ্যে টাকার বান্ডিল দেখতে পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে ওয়াথোদা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। ঘর থেকে ৫০০ রুপির জালনোটের বেশ কয়েকটি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। নোট গণনার যন্ত্র এনে গণনা করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, সেখানে প্রায় ৩৭ লাখ রুপির জালনোট তৈরি করা হয়েছিল।

এছাড়া একপাশে ছাপা হলেও অন্যপাশে অসম্পূর্ণ বা আধা-ছাপা নোট এবং নোট তৈরির বিভিন্ন প্রিন্টিং সরঞ্জামসহ মোট প্রায় ৪৮ লাখ টাকার সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে অভিযুক্ত পুষ্পক বর্তমানে মুম্বাইয়ে পালিয়ে গেছেন। তাঁকে গ্রেফতারে পুলিশের একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে। এই জালনোট চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ডিআর