সৌদি আরবের আবাসিক, শ্রম আইন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ‘গালফ নিউজ’ জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৭,৯৩৪ জন প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন ১৩,৯০০ জনেরও বেশি প্রবাসী।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের এই বিশেষ অভিযানে মোট ১৩ হাজার ৯০০ জনেরও বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটক প্রবাসীদের অপরাধের ধরন
আকামা (রেসিডেন্সি) আইন লঙ্ঘন: ৬ হাজার ৬০০ জনের বেশি।
অবৈধ সীমান্ত পারাপার: প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জন।
শ্রম বা কাজের নিয়ম ভঙ্গ: প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন।
অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা: ১ হাজার ৮৮১ জন।
দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা: ২২ জন।
আইন লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয় বা সহায়তা: ২১ জন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩৭ হাজার প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যার মধ্যে দুই হাজারের বেশি নারী প্রবাসী রয়েছেন। এছাড়া নিজ দেশের পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহ করার জন্য ২০ হাজারের বেশি প্রবাসীকে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। তবে এবার বহিষ্কৃতদের মধ্যে কোন দেশের নাগরিক কতজন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা নিয়মভঙ্গকারীদের কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া থেকে সবাই যেন বিরত থাকেন। অবৈধ প্রবাসীদের আশ্রয়, চাকরি বা যাতায়াতে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও বাড়ি বাজেয়াপ্ত করাসহ অপরাধীর পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। এই ধরনের অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষকে দ্রুত প্রশাসনকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিশেষ হটলাইন চালু করেছে দেশটির সরকার।




Comments