Image description

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হওয়ার পর আচমকা নিখোঁজ ও নাটকীয় পলায়ন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে পৌঁছেছেন ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। সুপ্রিম কোর্টের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করে আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডর হয়ে মার্কিন মুলুকে গিয়ে নিজেকে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম এই দেশটির একমাত্র ‘বৈধ নেতা’ বলে দাবি করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারোর ৪৫ বছর বয়সী এই সন্তান।

পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত ও ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ৪৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের যুক্তরাষ্ট্র গমনের চাঞ্চল্যকর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে ব্রাজিল ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কোনো প্রমাণ ছাড়াই ফ্লাভিও বলসোনারো দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা ও তাঁর কট্টর বামপন্থি সহযোগীরা জালিয়াতি করে নির্বাচন ছিনিয়ে নিয়েছেন।

তিনি লেখেন, “রোববার রাতে, আমার চোখের সামনেই এক নির্বাচনি জালিয়াতি ঘটতে দেখে আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম।” একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্রিস্টিয়ানো জানিনের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, আদালতের হস্তক্ষেপে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটের মাঝে কৃত্রিমভাবে ১ কোটি ভোট যুক্ত করা হয়েছে।

নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে একাধিক তদন্তের অংশ হিসেবে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট। প্রথমে সোশাল মিডিয়ায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, গোপনে ব্রাজিলের সীমান্ত পার হন তিনি।

ব্রাসিলিয়া থেকে প্রস্থান: মঙ্গলবার ব্রাসিলিয়ার সরকারি বাসভবন থেকে তাঁর গাড়িবহর বের হওয়ার পর থেকেই বলসোনারোর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।

আর্জেন্টিনা প্রবেশ: ব্রাজিলের কড়া নজরদারি এড়িয়ে তানক্রেদো নেভেস আন্তর্জাতিক সেতু অতিক্রম করে বৈধ ইতালীয় পাসপোর্টের সাহায্যে আর্জেন্টিনার পুয়ের্তো ইগুয়াজুতে প্রবেশ করেন তিনি।

ইকুয়েডর হয়ে মিয়ামি: আর্জেন্টিনায় পৌঁছানোর পর একটি ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে ইকুয়েডরের বন্দরনগরী গুয়ায়াকুলে সংক্ষিপ্ত জ্বালানি বিরতি নেন বলসোনারো। পরবর্তীতে সেখান থেকে সরাসরি উড়াল দিয়ে ফ্লোরিডার ওপা-লকা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি ও তাঁর পরিবার।

যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত তথ্যের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বাতিল হওয়া কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন ফ্লাভিও।

বলসোনারো পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাভিওকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলব না। তবে আমি জানি, আমরা তাকে দেশে আসার অনুমতি দিয়েছি। এখন দেখা যাক কী হয়।”

অন্যদিকে, ব্রাজিলের প্রচার ব্যবস্থাপক রোজেরিও মারিনহো জানান, বলসোনারোর দেশত্যাগের খবর নিয়ে তাঁরা চরম বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ফ্লাভিও বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে থেকেই ব্রাজিলের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করছেন।

ডিআর