চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমাঞ্চকর এক জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। দুইবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত গ্রিক ক্লাব এইকে এথেন্সকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ম্যাচের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন ফেদে ভালভের্দে।
ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়ালকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে স্বাগতিক এইকে এথেন্স। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে মিজাত গাচিনোভিচের শট ঠেকিয়ে দেন রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তবে ১২ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। লুকা ইয়োভিচের পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে দলকে এগিয়ে দেন আবুবাকারি কোইতা।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় রিয়াল। তবে স্বাগতিকদের আক্রমণে বেশ কয়েকবার বিপদে পড়তে হয় তাদের। গোলরক্ষক কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় প্রথমার্ধে ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি এইকে।
৩২ মিনিটে সমতায় ফেরে রিয়াল। বাঁ দিক থেকে মার্ক কুকুরেয়ার বাড়ানো বল বক্সে পেয়ে দারুণ ফ্লিকে জালে পাঠান জুড বেলিংহাম। চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি মৌসুমে এটি ইংলিশ মিডফিল্ডারের প্রথম গোল। বিরতির আগে আরও একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে বেলিংহামের আরেকটি গোল বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল রিয়াল। কিন্তু ৭৫ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় এইকে। কোইতার পাস ধরে বক্সে ঢুকে নিচু শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন স্টাভরোস পিলিওস।
তবে তিন মিনিটের ব্যবধানেই সমতা ফেরায় রিয়াল। জুড বেলিংহামের পাস ধরে ডান দিক দিয়ে এগিয়ে আসেন ডেনজেল ডামফ্রিস। তাঁর বাড়ানো বল কাছ থেকে জালে পাঠান কিলিয়ান এমবাপ্পে।
এই গোলের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের হয়ে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব গড়েন এমবাপ্পে। পাশাপাশি প্রতিযোগিতাটিতে নিজের ক্যারিয়ারের ১০০তম গোলে অবদান রাখার মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এ অর্জনে তাঁর লেগেছে ১০২ ম্যাচ। তাঁর চেয়ে কম ম্যাচে এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন কেবল লিওনেল মেসি (১০১ ম্যাচ)।
শেষ দিকে দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। ৮৬ মিনিটে এমবাপ্পের একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফেদে ভালভের্দে।
এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল রিয়াল মাদ্রিদ। চার ম্যাচে চার জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর সঙ্গে রয়েছে তারা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি জোসে মরিনিওর দলের টানা সপ্তম জয়।




Comments