Image description

জাপানে বসবাসরত প্রবাসী মুসলিম পরিবারগুলোর সন্তানদের ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রেখে মানসম্মত সাধারণ শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ইকরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০১৪ সালে ব্যক্তি উদ্যোগে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫ সালে অলাভজনক সংস্থা (এনপিও) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। নতুন কাঠামোর মাধ্যমে শিক্ষার ব্যয় কমিয়ে আরও বেশি শিশুর কাছে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির এনপিও হিসেবে আত্মপ্রকাশ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রবাসী কমিউনিটির সামনে তুলে ধরতে একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ইকরা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, প্রিন্সিপালসহ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সেমিনারে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা থেকে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানোর পথচলা, নতুন কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

আয়োজকদের মতে, ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি এখন কমিউনিটিভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। এর ফলে পরিচালনা ও উন্নয়নে প্রবাসী মুসলিম কমিউনিটির সম্মিলিত অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নতুন কাঠামোর অন্যতম লক্ষ্য শিক্ষার ব্যয় কমানো। প্রবাসীদের সীমিত আয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তুলনামূলক কম খরচে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাপানে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মুসলিম অভিবাসী পরিবারের শিশুদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক সাধারণ শিক্ষার সমন্বয় করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সেমিনারে অংশ নেওয়া অভিভাবক ও কমিউনিটির প্রতিনিধিরা শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। আয়োজকদের বক্তব্য, ইকরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ শুধু কোনো ব্যক্তি বা কমিটির প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জাপানের প্রবাসী মুসলিম কমিউনিটির সম্মিলিত সম্পদ ও ভবিষ্যৎ।

প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, জাপানে বেড়ে ওঠা শিশুদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত রাখার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের, যাতে অর্থের অভাবে কোনো প্রবাসী শিশু মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়।