ভোটারের ন্যূনতম বয়স ৪০ বছর হলে কেন্দ্রে মারামারি হবে না: আবু হেনা রাজ্জাকী
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু হেনা রাজ্জাকী বলেছেন, ভোটারের ন্যূনতম বয়স ৪০ বছর হওয়া উচিত। ভোটারের বয়স ৪০ বছর হলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে মারামারি হবে না।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশনের টকশোতে তিনি এ কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট রাজ্জাকী বলেন, ভোটারের বয়স ১৮ বছর মানেই গোড়ায় গলদ। কারণ, আপনার যে ছেলে বা মেয়ের বয়স ১৮ বছর, আপনি তাকে স্কুলে না গেলে থাপ্পড় দেন। তাহলে সে নির্বাচনের সময় কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবে কীভাবে? কে আইন প্রণয়ন করবে, কে যোগ্য—এটা কি সে জানে?
উপস্থাপকের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনি তাকে বাসা থেকে একজনকে ভোট দেওয়ার কথা বলে দিলেন। কিন্তু কেন্দ্রে যাওয়ার পর পাশ থেকে একজন বলল, ওই জায়গায় ভোটটা দিও। তার তো নিজের কোনো সিদ্ধান্তই নেই। তাহলে আপনি তার ভোট নিয়ে কীভাবে এমপি হন?
এ বিষয়ে আপনার পরামর্শ কী—উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার পরামর্শ থাক বা না থাক, ভোটারের ন্যূনতম বয়স হতে হবে ৪০ বছর। কারণ, নবীজি জন্মেই রাসুল ছিলেন, কিন্তু নবুওত পেয়েছেন ৪০ বছর বয়সে। চল্লিশ হলো পরিপক্বতার চিহ্ন। ৪০ একটি প্রতীকী বয়স, যে বয়সে মানুষ পরিপক্ব হয়। কাজেই সে নির্বাচন করতে পারবে, সিলেক্ট করতে পারবে। সে ঘরে-বাইরে কাজ করে।
রাজ্জাকী বলেন, একজন ১৮ বছরের বাচ্চা তো রোজগারও করতে পারে না। সে আপনাকে বলে চিপস নিয়ে আসতে, আইসক্রিম নিয়ে আসতে। এগুলোই তার থিংকিং। সে নাকি আইন প্রণেতা (ল মেকার) নির্বাচনের জন্য ভোট দেবে। এটা হলো পাগলের দেশ।
তাহলে ৪০ বছরের নিচে কেউ প্রার্থীও হতে পারবে না?—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, না হোক, হওয়া উচিত না তো। ভোটার কম হোক। এখন ১২ কোটি ভোটার আছে, সেটা ৪ কোটি হোক—সমস্যা কী? ৪০ বছর বয়সে যদি ভোটার হয়, তাহলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে মারামারি হবে না।
তাহলে কি আপনি ভোটার ও নাগরিক—দুটিকে আলাদা করতে চাচ্ছেন?—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নাগরিক তো থাকবেই, নাগরিক থাকতে অসুবিধা কী? আপনি বুকে হাত দিয়ে বলেন তো, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে মারামারি কারা করে? নিশ্চয়ই ১৮-২৫ বছর বয়সীরা! ৪০ বছরের লোকেরা করে? তরুণদের সরান এখান থেকে, তাহলে মারামারি হবে না।
তিনি আরও বলেন, উন্নত বিশ্বে যখন বয়স ১৮ হয়, তখন বলে, ‘সরে যাও এখান থেকে। গেট লস্ট। চলে যাও। তোমার রোজগার তুমি করবে। তোমার লেখাপড়া তুমি করবে।’ উন্নত বিশ্বে পড়ালেখা করতে এডুকেশন লোন নেয়। ঋণ নেওয়ার পর বলা হয়, তুমি যখন থেকে কাজ শুরু করবে, তার ৩০-৪০ বছর পর এই ঋণ শোধ করবে।
রাজ্জাকী বলেন, সে মাঠে নেমে ছয় মাসের মধ্যে দুনিয়া চিনতে পারে। সে ভাবে, আমাকে পড়তে হবে, ব্যাংকের টাকা নিতে হবে।
তিনি বলেন, যে নিজের দায়িত্ব নিতে পারে, সে তো অন্যের দায়িত্বও নিতে পারে। আপনার লোকের সেটা আছে? এই যে আমরা উন্নত বিশ্বের তুলনা দিই, এটা একদম রামছাগলের মতো। আপনি নিজে উন্নত না হয়ে উন্নত দেশ টানলে কী হবে? উন্নত বিশ্বের ১৮ বছর বয়সে সবাই প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং তাদের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা আছে, কিন্তু আমার দেশের সন্তানদের তা নেই। সুতরাং এটা একটা রং কনসেপ্ট।
তিনি আরও বলেন, ১৮ বছর বয়সী বাচ্চাদের উইথড্রো করলে ভোটকেন্দ্রে মারামারি কমে যাবে।
‘আপনার তথ্য অনুযায়ী, এনসিপি তাহলে রাজনীতিই করতে পারবে না?’—উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘করতে পারবে না, তাতে অসুবিধা কী?’
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ২৫ বছর বয়সে এমপি বা মন্ত্রী হতে পারবেন। কিন্তু ২৭-৩২ বছর বয়সে বিসিএস হয়, ছাত্র থাকে। আপনারা এই জায়গাতেই তো ছাত্র রেখে দিয়েছেন।
বিএইচ




Comments