Image description

টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ফাইনালে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। তবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াই শেষে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় লিওনেল মেসিদের। ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতে নেয় স্পেন।

পুরো ম্যাচ বিশ্লেষণ করলে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পেছনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

১. আক্রমণে ধারহীনতা
ফাইনালের বড় একটি অংশজুড়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ ছিল নিষ্প্রভ। প্রথমার্ধে তারা স্পেনের রক্ষণে তেমন চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। কার্যকর আক্রমণ গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্নার আদায়েও ব্যর্থ হয় স্কালোনির দল। অতিরিক্ত সময়ে লিওনেল মেসির দূরপাল্লার শট এবং জুলিয়ানো সিমিওনের একটি সুযোগ ছাড়া উল্লেখযোগ্য আক্রমণ দেখা যায়নি।

২. মাঝমাঠে স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য
বল দখল ও ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিল স্পেন। রদ্রি ও পেদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে তারা। অন্যদিকে লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের গতিময় ফুটবল আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে। ফলে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

৩. এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড
নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর অতিরিক্ত সময়ের পুরোটা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে। সংখ্যাগত পিছিয়ে পড়ায় আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই ভারসাম্য হারায় দলটি, যা ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।

৪. বিচ্ছিন্ন ছিলেন লিওনেল মেসি
স্পেনের কড়া মার্কিং এবং মাঝমাঠ থেকে পর্যাপ্ত বলের জোগান না পাওয়ায় পুরো ম্যাচেই অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। হুলিয়ান আলভারেজ মাঠ ছাড়ার পর আক্রমণের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেলেও সেই চাপ সামাল দিয়ে ম্যাচে পার্থক্য গড়ে তুলতে পারেননি আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা।

৫. রক্ষণে এক মুহূর্তের ভুলেই সর্বনাশ
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। ডান দিক থেকে পেদ্রো পোরোর ক্রসে নিকো উইলিয়ামসের হেড ফেরান তোরেসের সামনে চলে যায়। সুযোগ হাতছাড়া না করে জালে বল পাঠান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। পুরো ম্যাচে ক্রস ও সেট-পিস মোকাবিলায় আর্জেন্টিনার যে দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেটিরই মূল্য দিতে হয় তাদের।

যদিও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে দীর্ঘ সময় লড়াইয়ে রেখেছিলেন, তবুও আক্রমণে ধারহীনতা, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারানো, এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড এবং রক্ষণে এক মুহূর্তের ভুল মিলিয়ে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার। অন্যদিকে গোছানো, নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর ফুটবল খেলেই বিশ্বকাপের শিরোপা নিজেদের করে নেয় স্পেন।

মানবকন্ঠ/এসএস