Image description

সময়টা ছিল ২০১৯ সাল। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের তখন স্বপ্নের মতো দিন। মাশরাফি বিন মুর্তজার আপসহীন নেতৃত্বে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে অপ্রতিরোধ্য এক দল হয়ে উঠেছিল টাইগাররা। সেই বছর আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ইতিহাসে নিজেদের প্রথম ও একমাত্র শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ সাত বছর পর আবারও ফিরছে রোমাঞ্চকর সেই ত্রিদেশীয় ওয়ানডে যুদ্ধের মঞ্চ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে এই টুর্নামেন্ট। সিরিজের অপর দল শক্তিশালী আফগানিস্তান। মরুর বুকে পুরোনো স্মৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের সামনে থাকছে ইতিহাস পুনরাবৃত্তির সুবর্ণ সুযোগ।

টুর্নামেন্টের সময়সূচি অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। এরপর ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হলেও ২৩ অক্টোবরের মেগা ফাইনালসহ শেষ ম্যাচটি আয়োজিত হবে শারজাহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

দলগুলোর শক্তিমত্তা ও এশীয় কন্ডিশন বিবেচনায় স্পষ্ট কোনো ফেভারিট বেছে নেওয়া কঠিন। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলামকে নিয়ে গড়া বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণ যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই কঠিন পরীক্ষা। পাশাপাশি মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন ও তানভীর ইসলামের সঙ্গে রহস্যময় স্পিনার আলিস আল ইসলাম স্পিন বিভাগে যোগ করেছেন দারুণ বৈচিত্র্য।

তবে শক্তিশালী বোলিং ইউনিট থাকলেও টাইগারদের মূল চিন্তার কারণ ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা। দেশের বাইরে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ব্যাটিং বিপর্যয়ের ভূত কাটিয়ে ওঠাই হবে লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয় ও সাইফ হাসানদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সাতটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিয়ে মাত্র তিনবার ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ; যার মধ্যে আয়ারল্যান্ডের একটি শিরোপা ছাড়া দু'বারই হতে হয়েছে রানার্সআপ। ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি ও বাণিজ্যিক সমীকরণের গ্যাঁড়াকলে একসময় হারিয়ে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজ সাত বছর পর ফেরায় ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝেও নতুন উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এখন দেখার বিষয়—মাশরাফিদের ২০১৯ সালের সেই সোনালি ইতিহাস এবার মরুর বুকে পুনরাবৃত্তি করতে পারে কি না লিটন বাহিনী।

ডিআর