রাশিয়া বা চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের হাতে আরও বেশি বিকল্প রাখতে নতুন কৌশল তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগন।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিষয়টি নিয়ে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন কৌশলে দূরপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্রের পরিবর্তে স্বল্পপাল্লার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য কোনো আঞ্চলিক সংঘাতে রাশিয়া বা চীন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলা চালালে কীভাবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, সেটিও এই পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
এই কৌশল তদারকি করছেন পেন্টাগনের নীতি বিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কলবি। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, প্রেসিডেন্টের হাতে যত বেশি বাস্তবসম্মত বিকল্প থাকবে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধ সক্ষমতাও তত শক্তিশালী হবে।
প্রায় ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই পেন্টাগন নতুন কৌশল প্রণয়নের কাজ শুরু করে।
২০১০ সালে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির আওতায় দুই দেশ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং ৭০০টি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ব্যবস্থা মোতায়েন করতে পারত। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও তা আর নবায়ন করা হয়নি।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাশিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা না বাড়ায়, তাহলে তারাও উত্তেজনা বাড়ানোর মতো কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন কোনো সমঝোতার আগে ওয়াশিংটনকে নিউ স্টার্টের শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন চুক্তির আগ্রহ প্রকাশ করলেও বেইজিং তাতে সাড়া দেয়নি।
বর্তমানে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারে প্রায় ৬০০টি ওয়ারহেড রয়েছে। চীনের অবস্থান হলো, যেসব দেশের পারমাণবিক অস্ত্র সবচেয়ে বেশি, নিরস্ত্রীকরণের প্রধান দায়িত্ব তাদেরই নেওয়া উচিত।
এদিকে রাশিয়া বলেছে, ভবিষ্যতে কোনো নতুন পারমাণবিক চুক্তি হলে তাতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো ন্যাটোভুক্ত পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনেরও সমালোচনা করেছে মস্কো।




Comments