সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ফের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। সোমবার সৌদির দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানোর দাবি করে তারা।
হুতিদের দাবি, বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে, গোলাবারুদের গুদামসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ছিল হামলার লক্ষ্য। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জেদ্দায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সৌদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৈঠকে আঞ্চলিক সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ। তবে হুতিদের ওপর সরাসরি মার্কিন হামলায় সম্মতি না দিয়ে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এদিকে ইয়েমেনে হুতিদের দখলে আরও দুটি কৌশলগত দ্বীপ যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এপি জানিয়েছে, লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলের গ্রেটার হানিশ ও লেসার হানিশ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে হুতিরা। এর আগে তারা বন্দরনগরী মোখা ও বাব আল-মানদেব প্রণালির মাইয়ুন দ্বীপ দখল করে।
হুতিদের সঙ্গে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সংঘাতও তীব্র হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ প্রদেশে কয়েকটি এলাকা পুনর্দখল করে এগিয়ে যাচ্ছে সরকারি বাহিনী। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে মারিব প্রদেশেও, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনা রয়েছে।
হরমুজ বৈঠক স্থগিত
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ওমানে নির্ধারিত বৈঠক শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সৌদি আরবের অনুরোধে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের দেওয়া কারণকে তিনি ‘মিথ্যা অজুহাত’ বলে মন্তব্য করেন।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যিদ বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, ঐকমত্যের স্বার্থেই বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।
তেলের বাজারে চাপ
ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বেড়েছে। সপ্তাহের শুরুতে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
এর আগে শুক্রবার ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যায়। পাইপলাইনটি কয়েক দিনের মধ্যে চালু না হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতে ইয়েমেনে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা।
এসএস




Comments