Image description

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপকে ঘিরে ভারতের পূর্ব উপকূলে দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, সিস্টেমটি এখনো গভীর নিম্নচাপ হিসেবে রয়েছে। তাই এটিকে এখনই ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বলা যাচ্ছে না।

আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে এটি স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। সম্ভাব্য স্থলভাগে প্রবেশের এলাকা কালিঙ্গপটনমের কাছাকাছি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্থলভাগে প্রবেশের আগে সিস্টেমটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

কোথায় বেশি প্রভাব পড়তে পারে

প্রাথমিকভাবে ভারতের ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে এর প্রভাব বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ওড়িশা ও উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ওড়িশায় ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বিচ্ছিন্নভাবে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কোরাপুট, গজপতি ও গঞ্জামসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে রাজ্যের একাধিক জেলায় স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম ও রায়ালসীমার বিভিন্ন এলাকায় ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শ্রীকাকুলাম ও বিজয়নগরম জেলায় বুধবার স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গেও বৃষ্টির পূর্বাভাস

সরাসরি স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাব্য এলাকা পশ্চিমবঙ্গ নয়। তবে সিস্টেমটির প্রভাবে রাজ্যের উপকূলীয় জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইএমডি শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও ঝোড়ো আবহাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে।

সমুদ্রে যেতে নিষেধ

পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্র ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তাল থেকে অতি উত্তাল থাকতে পারে।

এ কারণে উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিহারেও পড়তে পারে প্রভাব

স্থলভাগে প্রবেশের পর সিস্টেমটির প্রভাব উপকূলীয় রাজ্যগুলোর বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিহারে ২৩ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রপাত, বজ্রঝড় ও শক্তিশালী বাতাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আইএমডির পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভারী থেকে অতি ভারী এবং পরবর্তী সময়ে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

‘অর্ণব’ কি ঘূর্ণিঝড় হবে?

এই মুহূর্তে ‘অর্ণব’ নামে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে—এমনটি নিশ্চিত নয়। আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের বর্তমান সিস্টেমটি গভীর নিম্নচাপ হিসেবেই উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা বেশি।

তবে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত না হলেও এর প্রভাবে ভারী থেকে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি, ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং কোথাও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাই আপাতত মূল উদ্বেগ ‘অর্ণব’ নামটি নয়; বরং বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল সমুদ্র পরিস্থিতি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

এনএ