স্বামী খোঁজ নেন না, ঠাঁই মেলেনি ঘরেও
লোহাগড়ায় অবুঝ দুই শিশুসহ উন্মুক্ত যাত্রী ছাউনিতে অসহায় মা
“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য—একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না?”—হৃদয়বিদারক এই প্রশ্নটি বুকে নিয়েই দিন কাটছে অসহায় হাছনেয়ারা খানমের। স্বামী ও স্বজনদের অবহেলায় নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে নড়াইলের লোহাগড়ার লক্ষ্মীপাশা চৌরাস্তার যাত্রী ছাউনির নোংরা ও উন্মুক্ত পরিবেশেই দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে রাত-দিন কাটছে তাঁর।
৩৮ বছর বয়সী হাছনেয়ারা খানম বাগেরহাট সদর উপজেলার গোবরদিয়া গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তাঁর স্বামী নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের আড়িয়ারা গ্রামের সুজন শেখ। দম্পতির সংসারে রয়েছে তিন সন্তান—১২ বছর বয়সী ছেলে ইয়াসিন শেখ, ৬ বছর বয়সী মেয়ে নুসরাত জাহান রাফি এবং ২ বছর বয়সী শিশু আয়শা আক্তার রাফি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী সুজন শেখ স্ত্রী ও সন্তানদের ন্যূনতম খোঁজখবর ও ভরণপোষণ না দেওয়ায় চরম মানবিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন হাছনেয়ারা। একপর্যায়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দুই অবুঝ শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে লোহাগড়া চৌরাস্তার খোলা যাত্রী ছাউনিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তিনি। তাঁদের বড় ছেলে ইয়াসিন বর্তমানে লোহাগড়ার শামুকখোলা মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করছে এবং সে একটি এতিমখানায় আশ্রয়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ ও সমবেদনা প্রকাশ করে জানান, লক্ষ্মীপাশা চৌরাস্তার অত্যন্ত ব্যস্ত ওই যাত্রী ছাউনিতে মশার কামড়, ধুলাবালি ও যানবাহনের বিকট শব্দের মধ্যেই মা ও দুই শিশুর জীবন কাটছে। মাঝে মাঝে স্থানীয় সবুজ ও রিমনের মতো কয়েকজন মানবিক যুবক তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা করলেও তা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। নিয়মিত খাবার, চিকিৎসাসেবা ও নিরাপদ আশ্রয়ের কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় অবুঝ সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন এই মা।
অশ্রুসজল চোখে হাছনেয়ারা খানম বলেন, "আমি সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। আমাদের মাথা গোঁজার মতো কোনো জায়গা নেই। অবুঝ বাচ্চা দুটোকে নিয়ে একটু নিরাপদ জায়গায় শান্তিতে থাকতে চাই। সরকারি বা সামাজিক সহযোগিতা ছাড়া এখন আমার আর বেঁচে থাকার কোনো উপায় নেই।"
তিনি লোহাগড়া উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবান মানবিক মানুষদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে বাসস্থান ও খাবারের আবেদন জানিয়েছেন।
অসহায় এই পরিবারটির জন্য স্থায়ী নিরাপদ আশ্রয়, নিয়মিত খাদ্য এবং শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা দ্রুত এগিয়ে আসবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।
ডিআর




Comments