Image description

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে লঞ্চপ্যাড এআই হ্যাকাথন ২০২৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সিএসই অ্যাপ্লায়েড কম্পিউটিং ক্লাবের আয়োজনে গত ২০ আগস্ট দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ৯৩টি দল অংশ নেয়। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হ্যাকাথন বিভাগে ৭৪টি এবং গবেষণা হ্যাকাথন বিভাগে ১৯টি দল অংশগ্রহণ করে।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলগুলোর সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রকল্পের মান বিবেচনায় দুটি বিভাগে মোট আটটি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হ্যাকাথনে বিজয়ী ৪ দল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হ্যাকাথন বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আলগোনক্স। প্রথম রানারআপ হয়েছে লেজিকোডার এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে মার্জিন মেকার্স। এ বিভাগে সেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্ভাবন পুরস্কার পেয়েছে বিট বাইটস।

গবেষণা হ্যাকাথনে বিজয়ী ৪ দল

গবেষণা হ্যাকাথন বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিয়ন্ড বেসলাইন। প্রথম রানারআপ হয়েছে নিউরোনোভা_ভিইউ এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে টিম ডিজিবিট। এ বিভাগে সেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্ভাবন পুরস্কার অর্জন করেছে দ্য হাইপোথিসিস।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার লে. কর্নেল মুহাম্মদ খালেদ বিন ইউসুফ (অব.) এবং নির্বাহী পরিচালক মো. শামীম আহসান পারভেজ।

এ সময় কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক উম্মে রুম্মান, সহকারী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান ও সুমাইয়া রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বিভাগের শিক্ষকরা প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্যায়ে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রকল্প মূল্যায়নসহ প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

আয়োজনটি সফল করতে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সিনিয়র লেকচারার মো. মাহফুজুর রহমান এবং লেকচারার মো. নূর নবী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মো. নূর নবী সিএসই অ্যাপ্লায়েড কম্পিউটিং ক্লাবের পরামর্শক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

আয়োজকরা জানান, বড় পরিসরে এ হ্যাকাথন সফলভাবে আয়োজনের পেছনে সিএসই অ্যাপ্লায়েড কম্পিউটিং ক্লাবের সব কমিটি সদস্যের নিরলস পরিশ্রম, সময় ও আন্তরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন করায় ক্লাবের সব কমিটি সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।

একই সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব দলের প্রতিও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

আয়োজকদের মতে, এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধান ও উদ্ভাবনী প্রকল্প তৈরিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

এনএ