১৪৪৭ হিজরি/২০২৬ ঈসাব্দের দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া ১৪৮ শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত ৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা মেধাবৃত্তির অর্থ সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর কাছে পাঠিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। গত ৯ সেপ্টেম্বর এ অর্থ বোর্ডগুলোতে পাঠানো হয়।
মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বোর্ড থেকে বৃত্তির অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। তবে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ বোর্ডভুক্ত মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয় থেকে সরাসরি সংগ্রহ করতে হবে।
চলতি বছর মেধাবৃত্তির জন্য নির্বাচিত ১৪৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২২ জন ছাত্র ও ২৬ জন ছাত্রী। ছাত্রদের জন্য মোট ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং ছাত্রীদের জন্য ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারীকে ২০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ১৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। চতুর্থ থেকে দশম স্থান পর্যন্ত প্রত্যেককে ৭ হাজার টাকা এবং ১১তম স্থান থেকে মেধাতালিকার শেষ পর্যন্ত প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। একই মেধাস্থান অর্জনকারী একাধিক শিক্ষার্থী থাকলে প্রত্যেকেই ওই স্থানের নির্ধারিত হারে বৃত্তি পাবেন।
অফিস ব্যবস্থাপক মু. অছিউর রহমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কওমি মাদরাসার মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ১৪৩৮ হিজরি/২০১৭ ঈসাব্দ থেকে ধারাবাহিকভাবে মেধাবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। ১৪৩৮ থেকে ১৪৪৭ হিজরি পর্যন্ত ১০ বছরে মোট ১ হাজার ৫৭২ শিক্ষার্থীকে ৯০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ১৩৯ শিক্ষার্থীকে ৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা, ২০১৮ সালে ১২৩ শিক্ষার্থীকে ৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং ২০১৯ সালে ১৪৩ শিক্ষার্থীকে ৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ২০২০ সালে ১৩০ শিক্ষার্থীকে ৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং ২০২১ সালে ১৯৬ শিক্ষার্থীকে ১০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ২০২২ সালে ১৭২ শিক্ষার্থীকে ৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, ২০২৩ সালে ১৩৫ শিক্ষার্থীকে ৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, ২০২৪ সালে ১৯৬ শিক্ষার্থীকে ১০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা এবং ২০২৫ সালে ১৯০ শিক্ষার্থীকে ১০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালে ১৪৮ শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
আল-হাইআতুল উলয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৪৪৩ হিজরি/২০২২ সাল পর্যন্ত মেধাবৃত্তির অর্থ প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থেকে সরাসরি বিতরণ করা হতো। ১৪৪৪ হিজরি/২০২৩ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর কাছে বৃত্তির অর্থ পাঠানো হচ্ছে এবং বোর্ডগুলো তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করছে।
আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ বোর্ডভুক্ত শিক্ষার্থীদের বৃত্তির অর্থ সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মাদরাসার মুহতামিম বা নাজিমে তা‘লিমাতের সিল ও স্বাক্ষরসহ আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অর্থ সংগ্রহ করতে হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষার নিবন্ধন ও পরীক্ষার ফি আল-হাইআতুল উলয়ার প্রধান আয়ের উৎস। নিবন্ধন ও পরীক্ষার ফি থেকে পরীক্ষার্থীপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এই আয় থেকেই গত এক দশকে মেধাবৃত্তি বাবদ মোট ৯০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
এনএ




Comments