জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরার পথে রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট দলের আটটি লাগেজ চুরি হয়েছে। এসব লাগেজে ক্রিকেটারদের পাসপোর্ট, আইফোন, মার্কিন ডলার, নগদ টাকা ও ক্রীড়াসামগ্রী ছিল।
লাগেজ উদ্ধারে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের রাজপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্রিকেটার এসএম মেহেরাব হোসেন। অভিযোগের পর রাজশাহী ও নাটোর জেলা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গেছে, মিরপুরে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে এনসিএলের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ শেষে বুধবার সকালে আকাশপথে রাজশাহী ফেরেন দলের ক্রিকেটাররা। এর আগে মঙ্গলবার রাতে খেলোয়াড়দের ৫৪টি লাগেজ বিসিবির একটি কাভার্ডভ্যানে করে সড়কপথে রাজশাহীর উদ্দেশে পাঠানো হয়।
বুধবার সকালে রাজশাহীর একটি হোটেলে লাগেজ নামানোর সময় দেখা যায়, আটটি লাগেজ নেই। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে থানায় অভিযোগ করেন মেহেরাব।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কাভার্ডভ্যানের চালক সজীব হোসেন জানান, রাজশাহী যাওয়ার পথে হাটিকুমরুল-বনপাড়া বাইপাসের একটি হোটেলে তিনি খাবার খান। এরপর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পুঠিয়ার একটি ফিলিং স্টেশনে গাড়ি থামিয়ে দেখতে পান, ভ্যানের পেছনের পাল্লা খোলা। তখন দরজা বন্ধ করে তিনি রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেন। পরে হোটেলে লাগেজ নামানোর সময় আটটি লাগেজ না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মেহেরাব হোসেনের লাগেজে ছিল পাসপোর্ট, একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার, ৩ লাখ টাকা নগদ এবং প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি পারফিউম ও পোশাক।
ক্রিকেটার আব্দুল কাদেরের লাগেজে ছিল প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ম্যাসাজ বেল্ট, দুই জোড়া জুতা ও পোশাক। মোহর শেখ অন্তরের লাগেজে ছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি জেবিএল স্পিকার ও পোশাক। মো. ওয়ালিদের লাগেজে ছিল ব্যক্তিগত পোশাক। এ ছাড়া দলের আরও চারটি যৌথ লাগেজে খেলোয়াড়দের পোশাক ও বিভিন্ন সামগ্রী ছিল।
লাগেজে গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও পাসপোর্ট থাকায় উদ্বেগে রয়েছেন ক্রিকেটাররা। আগামী ১৮ অক্টোবর রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে তাদের পরবর্তী ম্যাচ রয়েছে। ম্যাচের আগে প্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন।
রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট দলের ব্যবস্থাপক তৌহিদ তারেক বলেন, ঘটনায় তারা বিব্রত ও মর্মাহত। অভিযোগের পর পুলিশ তৎপর হয়েছে এবং লাগেজ উদ্ধারে দুই জেলার পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
রাজপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নাটোর বা রাজশাহী জেলার মহাসড়ক এলাকায় লাগেজগুলো চুরি হতে পারে। দুই জেলার পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত করছে।
এসএস




Comments