Image description

গত ৩ আগস্ট রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়।

পরদিন, ৪ আগস্ট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, এ সময় ছাত্রশক্তির নারী কর্মীদের কাছ থেকে ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া ছাত্রশিবির-সংশ্লিষ্ট নেতা রিয়াজুলের ওপর হামলার অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।

একই দিনে ঢাকা কলেজেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসাতেও দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

২৪ জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে সহনশীল, সম্প্রীতিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির প্রত্যাশা করেছিলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দুই বছর পর বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আবারও সংঘাত, আধিপত্য বিস্তার এবং প্রতিপক্ষকে দমনের সংস্কৃতি ফিরে আসছে—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিপক্ষকে দমনে দেশীয় অস্ত্রের প্রদর্শন এবং শিক্ষাঙ্গনে সংঘাতের ঘটনাগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

শিক্ষাঙ্গন কখনোই রাজনৈতিক সহিংসতার ক্ষেত্র হওয়া উচিত নয়। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার সমাধান হওয়া উচিত সংলাপ, গণতান্ত্রিক চর্চা ও আইনের শাসনের মাধ্যমে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আবারও জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধি ও সহাবস্থানের নিরাপদ পরিবেশে ফিরিয়ে আনাই এখন সময়ের দাবি।