Image description

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মনিপার্ক সংলগ্ন পদ্মা নদীতে গভীর রাতে ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে মনিপার্কের মালিক মনিরুল ইসলাম মনির দেহরক্ষী শরিফুল ইসলাম ববি (৩৮) গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ববি বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মসলেমপুর গ্রামের মৃত আলম খন্দকারের ছেলে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোররাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে গোলাপনগর মনিপার্কের উত্তরে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পদ্মা নদীর চর দামুকদিয়া অংশে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় পার্কের মালিক মনিসহ আরও দুজন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী জলযান 'এমভি বোল্ট ম্যারিনার'-এর গায়ে ভেতরে ও বাইরে অন্তত ৫৫টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই হামলায় অন্তত ১৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনিপার্কের স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলাম মনি সম্প্রতি একটি উদ্ধারকারী স্পিডবোট (রেসকিউ বোট) কেনেন। শুক্রবার রাতে তিনি শরিফুল ইসলাম ববি, বাদশা ঢালিম ও রেজা মোল্লাকে নিয়ে জলযানটির ট্রায়াল দিতে নদীতে যান। এসময় তিনটি স্পিডবোটে থাকা অন্তত ৩০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের গতিরোধ করার সংকেত দেয় এবং ফাঁকা গুলি ছোড়ে। মনি সংকেত অমান্য করে এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা জলযানটিকে ঘিরে ধরে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে ববি গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন এবং অন্যরাও আহত হন। গোপন সূত্রে জানা গেছে, জলযান থেকেও আত্মরক্ষার্থে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র দিয়ে পাল্টা গুলি চালানো হয়।

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, ভোর পৌনে ৫টার দিকে ববিকে হাসপাতালে আনা হয়। একটি গুলি তার বাম হাত ভেদ করে গেছে এবং অন্যটি বুকের বাম পাশের উপরের অংশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

জলযানের চালক বাদশা ঢালিম সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, "সন্ত্রাসীরা বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষণ করছিল। আমি স্যারকে (মনি) শুয়ে পড়তে বলে স্টিয়ারিং হাতে নিই। ভাঙা কাঁচের আঘাতে স্যারের মাথা কেটে গেছে এবং আমার পায়েও একটি গুলি লেগেছে। আমরা কীভাবে বেঁচে ফিরেছি তা বর্ণনা করার মতো নয়।"

লক্ষীকুণ্ডা নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, নৌযানটিতে ৫৫টির মতো গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ভেতর থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। 

রাজশাহী অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, "বিষয়টিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিচ্ছি। এক্সপার্ট টিম গুলির চিহ্ন পরীক্ষা করলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।"

উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোররাতের এই ঘটনাটি বিকেল ৫টা পর্যন্ত গোপন থাকলেও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মানবকণ্ঠ/ডিআর