গাইবান্ধায় মিটার চুরি, টাকা দিলেই ফেরতের প্রতিশ্রুতি
মিটার না থাকায় কয়েক দিন ধরে মিলের কার্যক্রম বন্ধ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পোস্টপেইড ডিজিটাল বিদ্যুৎ মিটার চুরির পর মালিকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিনব কৌশল নিয়েছে একটি চক্র। মিটার চুরির পর ঘটনাস্থলে সাঁটিয়ে দেওয়া হচ্ছে একটি মোবাইল নম্বর। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে চুরি যাওয়া মিটার ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা পাঠানোর পরও মিটার ফেরত না দিয়ে আবারও অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
মিটার চুরি ও পরে টাকা দাবির ঘটনায় রাইস মিল মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচটি অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার তারাপুর, দহবন্দ ও শান্তিরাম ইউনিয়নের কয়েকটি রাইস মিল থেকে পোস্টপেইড ডিজিটাল বিদ্যুৎ মিটার চুরি হয়েছে। সকালে মিল খুলতে এসে মালিকেরা দেখতে পান, মিটার নেই। তবে মিটার খোলার স্থানে পড়ে আছে একটি সাদা কাগজের স্লিপ। সেখানে লেখা রয়েছে একটি মোবাইল নম্বর।
স্লিপে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, চুরি যাওয়া মিটার তাদের কাছে রয়েছে। মিটার ফেরত পেতে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হবে। টাকা পাঠানোর পর মিটার কোথায় রাখা হবে, তা জানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
তবে টাকা পাঠানোর পরই শুরু হয় নতুন করে টালবাহানা। মিটার ফেরত দেওয়ার কথা বলে আবারও অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের ধারণা, একই কায়দায় একাধিক রাইস মিল থেকে মিটার চুরি এবং পরে টাকা দাবি করার ঘটনায় এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড। দ্রুত চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী মো. আবদুর রউফ মিয়া বলেন, “মিটার না থাকায় কয়েক দিন ধরে মিলের কার্যক্রম বন্ধ। নতুন মিটার নিতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। ব্যবসায় লোকসানের পাশাপাশি প্রতারকদের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছি।”
আরেক ভুক্তভোগী রাইস মিল মালিক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “মিটার চুরির পর সেখানে একটি মোবাইল নম্বরের স্লিপ পাওয়া যায়। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে বিকাশে টাকা দাবি করা হয়। টাকা পাঠানোর পরও আবার অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হলে বুঝতে পারি, এটি পরিকল্পিত প্রতারণা।”
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সুন্দরগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “এ ধরনের পাঁচটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো থানায় জানানো হয়েছে। মিটার চুরির পর যেসব মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও পুলিশকে সরবরাহ করা হয়েছে।”
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এসএ




Comments