বিলাইছড়িতে এসএসসিতে পাসের হার ৩২.৭৩ শতাংশ, ফলাফলে চরম বিপর্যয়
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ উপজেলায় এবার গড় পাসের হার মাত্র ৩২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না আসায় শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও হতাশা।
সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বিভীষণ চাকমা স্বাক্ষরিত এক অফিসিয়াল চিঠির মাধ্যমে এ ফলাফল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ২৭৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯১ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১৮৬ জন।
উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলাইছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার ১৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৪৬ জন এবং ফেল করেছে ১৩৬ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে তানজিলা আহাম্মদ বৃষ্টি নামে মাত্র একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল কিছুটা ভালো হলেও সার্বিকভাবে তা সন্তোষজনক নয়। এ বিদ্যালয় থেকে ৯৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪৫ জন এবং ফেল করেছে ৫১ জন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৪৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। তবে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
এ ছাড়া ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অধীনে বিলাইছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও রাইংখ্যং রাজগুরু অগ্রবংশ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এর মধ্যে বিলাইছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোট ১৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ জন এবং অনিয়মিত চারজন। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ জন এবং অনিয়মিতদের মধ্যে দুজনসহ মোট ১৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৭৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
এবারের ফলাফলে বিলাইছড়ি উপজেলার শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি জনপদের এ উপজেলায় শিক্ষার এমন নিম্নমুখী ফলাফলের কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পাঠদানের মান বাড়ানো, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি বাড়ানো জরুরি।
এসএ




Comments