Image description

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে নিহত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের শ্রমিক খোকন মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েও শেষবারের মতো তাঁর মুখ দেখতে পারেননি স্ত্রী শাপলা বেগম। দেড় বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে স্বামীর মৃত্যুতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তিনি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিসমত হলদিয়া গ্রামের নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে খোকন মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

খোকন মিয়া একই গ্রামের মো. রানা মিয়ার ছেলে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় ‘ফেরদৌস স্টিল’ নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। অভিযোগ রয়েছে, স্ক্র্যাপ জাহাজের একটি গ্যাস সিলিন্ডার কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে খোকনসহ কয়েকজন শ্রমিক হতাহত হন।

শনিবার সকালে খোকনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

তবে স্বামীকে শেষবার দেখতে না পারায় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী শাপলা বেগম। তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি বাবার বাড়িতে ছিলেন। প্রথম দিকে তাঁকে স্বামীর মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। পরে খবর পেয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে জানতে পারেন, মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই স্বামীর দাফন সম্পন্ন হয়।

শাপলা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর দেড় বছরের শিশুসন্তানকেও বাবার শেষ চেহারা দেখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে অস্বীকার করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

খোকন মিয়া ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও শিশুসন্তানকে নিয়ে তাঁর সংসার চলত। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে শাপলা বেগম বলেন, “এই ছোট বাচ্চাটাকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? আমার আর কোনো চলার পথ নেই। সরকার ও কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে আমার ও আমার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার আবেদন জানাচ্ছি।”

এদিকে দুর্ঘটনার পেছনে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে নিহত খোকন মিয়ার স্ত্রী ও শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এসএ