Image description

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের দীর্ঘদিনের পুরোনো বিরোধ ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।

জানা গেছে, সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কিছু দোকানপাট ও ঘরবাড়িতে ভাঙচুরসহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে নজরুল মিয়া (৩০), রানা মিয়া (১৯), তাহের মিয়া (৫০) ও স্বপন মিয়া (২৮) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকিরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত ২৭ জুলাই একই বিষয় নিয়ে সংঘর্ষে মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়া ও হিরণ মিয়া নামের দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার এক মাস পার হতে না হতেই রোববার দুপুরে মিরারচর গ্রামের কয়েকজন যুবক বাজারে গেলে আকবরনগরের লোকজন তাদের মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। আবার আকবরনগর গ্রামের দাবি, তাদের পক্ষের লোকজন আদালতে জামিন নিতে গিয়ে জেলহাজতে প্রেরিত হওয়ার খবর শুনে মিরারচর গ্রামের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ, র‍্যাব এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ জানান, বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের মানুষ ফের আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের এই বাসস্ট্যান্ড এলাকার নামকরণ নিয়ে গত ৪৫ বছর ধরে আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামবাসীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। এক পক্ষ এলাকাটিকে ‘আকবরনগর বাসস্ট্যান্ড’ এবং অন্য পক্ষ ‘মিরারচর বাসস্ট্যান্ড’ বলে দাবি করে আসছে। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৫ বছরে অন্তত ৫ বার বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ডিআর