Image description

মাগুরায় উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের পরীক্ষায় জেলায় পাসের হার মাত্র ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১০ জেলার মধ্যে পাসের হারে মাগুরার অবস্থান নবম। তবে জেলার শিক্ষার মান নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে মাগুরা সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকুন্ডী কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে টানা দুই বছর পরীক্ষায় অংশ নিয়েও পাস করতে পারেননি একজন শিক্ষার্থীও। দুই বছরে ২৭ জন পরীক্ষার্থীর কেউ উত্তীর্ণ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, পাঠদান ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) যশোর শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাগুরা জেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ। চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ০ দশমিক ১০ শতাংশ পয়েন্ট। 

সামান্য এই পতনের পাশাপাশি জেলার সার্বিক ফলাফলও শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১০ জেলার ফলাফলে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে যশোর জেলা। সেখানে পাসের হার ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এরপর খুলনায় ৪৬ দশমিক ৬৫, চুয়াডাঙ্গায় ৪৬ দশমিক ১৩, কুষ্টিয়ায় ৪৫ দশমিক ৩৮, সাতক্ষীরায় ৪৩ দশমিক ৪৫, ঝিনাইদহে ৪১ দশমিক ৯৮, মেহেরপুরে ৪০ দশমিক ৭৬ এবং বাগেরহাটে ৩৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। মাগুরায় পাসের হার ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আর সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে নড়াইল জেলা, যেখানে পাসের হার ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

তবে জেলার ফলাফলের চেয়েও বেশি উদ্বেগজনক বুজরুক শ্রীকুন্ডী কলেজের ধারাবাহিক ব্যর্থতা। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে আটজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি। চলতি বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ জনে। কিন্তু এবারও পাসের খাতা শূন্য। অর্থাৎ দুই বছরে মোট ২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

এমন ফলাফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক শিক্ষার্থীর বাবা। তিনি কলেজের প্রধান শিক্ষককে ফোন করে জানতে চান,গত বছরও কেউ পাস করেনি, এবারও কেউ পাস করতে পারেনি-তাহলে এ কলেজ এমপিওভুক্ত হবে কীভাবে? তাঁর এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে।

শুধু বুজরুক শ্রীকুন্ডী কলেজই নয়, চলতি বছর মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকেও দুজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন শতভাগ অকৃতকার্য ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় মাগুরার দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, গত বছর শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০টি। এবার তা কমে ১৬টিতে দাঁড়িয়েছে। শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি নবায়নের ক্ষেত্রে শর্ত আরোপের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে টানা দুই বছর কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে না পারার পরও সেখানে শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মানোন্নয়নে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? শিক্ষার্থীদের এমন ফলাফলের দায় কে নেবে? শুধু স্বীকৃতি নবায়নে শর্ত আরোপই কি যথেষ্ট, নাকি প্রয়োজন হবে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি?

ডিআর