রাবি ছাত্রকে হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রদলের, শিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ পাল্টা দাবি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের এক শিক্ষার্থীকে রাতভর হেনস্তা ও শারীরিক মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান ফুয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক সবুজ শাহরিয়ার। তাঁদের দাবি, ওই শিক্ষার্থী ছাত্রশিবিরের হয়ে ‘গুপ্তচরবৃত্তি’ করছিলেন এবং ছাত্রদলকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে তাঁদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ছাত্রদল নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রদল সভাপতি মেহেদী হাসান ফুয়াদ বলেন, “আমি ওই শিক্ষার্থীকে মাত্র দুই-তিন দিন ধরে চিনি, এর আগে তাঁকে সেভাবে চিনতাম না। একদিন ক্যাম্পাসে দেখা হলে তিনি নিজে থেকেই আমার কাছে এসে ছাত্রদলের রাজনীতি করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে একদিন তিনি আমাকে ফোন করে দেখা করতে চাইলে আমি তাঁকে আমার জোহা হলের রুমে আসতে বলি।”
তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়ে আরও বলেন, “রুমে এসে তিনি আবারও ছাত্রদলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং আমাদের হলের সাংগঠনিক গ্রুপে যুক্ত করে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তাঁকে আমাদের হলের ছাত্রদলের গ্রুপে যুক্ত করার জন্য তিনি নিজেই স্বেচ্ছায় তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি আমার হাতে দেন। তখন তাঁর ফোনে রাবি হল শিবিরের সভাপতি রাশানের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর মেসেজ দেখতে পাই।”
ফুয়াদ অভিযোগ করে বলেন, “ওই মেসেজগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ পরিচয় রয়েছে এবং সংগঠনের বিভিন্ন গোপনীয় বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ হয়েছে। সেখানে শিবির সভাপতি রাশান তাঁকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন—আমার সঙ্গে কথা বলার সময় যেন ফোনের রেকর্ডার চালু রাখেন, এবং প্রভোস্ট স্যারের রুমে যাওয়ার আগে ও ভেতরে কী আলোচনা হয়, তা গোপনে রেকর্ড করে শিবিরের কাছে পৌঁছে দেন। শুধু তাই নয়, হলের সেকশন অফিসারের রুমে গিয়েও সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা তাঁদের ফোনে পাওয়া যায়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এসব তথ্যপ্রমাণ থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট মনে হয়েছে, ওই সাধারণ শিক্ষার্থীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ছাত্রদলকে বিতর্কিত ও কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। শিবিরের পরিকল্পিত নীল-নকশার অংশ হিসেবেই তাঁকে জোহা হলে ছাত্রদলের সভাপতির পেছনে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”
এদিকে শিক্ষার্থীকে রাতভর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ একবাক্যে অস্বীকার করে হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শাহরিয়ার বলেন, “তাকে আমরা কেন অহেতুক মারতে যাব? যদি তাকে মারধরই করা হতো, তবে তার শরীরে নিশ্চয়ই আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন থাকত। ঘটনার সময় সেখানে আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তা ছাড়া ভিডিওতেও সে নিজের মুখে স্বীকার করেছে যে তাকে কেউ মারধর করেনি। সে যে কথাগুলো বলেছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানিয়ে বলা।”
তিনি দাবি করে আরও বলেন, “তার কথা বলার ধরণ শুনে যে কারও মনে হবে, কেউ তাকে একটি নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট লিখে দিয়েছে এবং সে হুবহু সেটিই মুখস্থ পড়ে গেছে।”
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, এই গুপ্তচরবৃত্তি ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাঁরা দ্রুতই লিখিত অভিযোগ জমা দেবেন। পাশাপাশি নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান তারা।
ডিআর




Comments