Image description

খুলনায় ‘ভাত চুরি করে খাওয়ার’ অপবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত আজমুল হোসেন ওরফে আযমের বাবা কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় মামলাটি করেন।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নিহত আজমুল হোসেনের বয়স ২১ বছর। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

শুক্রবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে খাজা খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনে ইসলাম নগর রোডের একটি ছাত্রাবাসের গলি থেকে আজমুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চারতলা ভবনটি ছাত্রদের মেস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী থাকেন। প্রায় এক বছর আগে আজমুল ওই ভবনের ডি-৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন।

মেসের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্থানীয়রা জানতে পারেন, শুক্রবার রাতে মেসের ম্যানেজার মেহেদীর ভাত খেয়ে ফেলেন আজমুল। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগ তুলে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বহিরাগত তাকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন।

পরে আশপাশের বাসিন্দারা ছাদ থেকে নিচে কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পান। কিছুক্ষণ পর তারা গলিতে আজমুলকে পড়ে থাকতে দেখেন। মেসের শিক্ষার্থীরা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এসএস