Image description

দক্ষিণ আফ্রিকায় ৯ নারী হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ, প্রতিবাদ

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের কাছে দুই মাসে নয় নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশটিতে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এসব হত্যাকাণ্ড পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা তদন্ত করছে পুলিশ।

জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলীয় এখুরহুলেনি শহরে এসব নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। কয়েকজনের মরদেহে পোশাক ছিল না এবং তাদের ওপর যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

নিহতদের মধ্যে ৩৮ বছর বয়সী অ্যাথলেট এলিজাবেথ মোসেলাকগমোও রয়েছেন। দৌড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার তাকে স্মরণ করে একটি দৌড় আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মোমবাতি জ্বালান এবং ‘যথেষ্ট হয়েছে। নারী হত্যা বন্ধ করুন’ লেখা ব্যানার বহন করেন। অংশগ্রহণকারীরা সবাই কালো পোশাক পরেছিলেন।

দৌড়ে অংশ নেওয়া লেরাতো লেন্তসেলা বলেন, তারা একজন দৌড়বিদকে হারিয়েছেন। কিন্তু কোথাও নারীরা নিরাপদ নন। দৌড়ানো, পোস্ট অফিসে যাওয়া, ডেটে যাওয়া, এমনকি নিজের বাড়ি বা উবারেও নারীরা নিরাপদ বোধ করছেন না।

এসব হত্যাকাণ্ডে দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে সরকারি উদ্যোগ ও বাড়তি মনোযোগের পরও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি বলে অনেকে মনে করছেন।

লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কাজ করা উয়িনেনে ম্রওয়েতিয়ানা ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, নারীদের ভয়হীনভাবে বেঁচে থাকা, চলাফেরা ও দৌড়ানোর অধিকার রয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, এ ধরনের সহিংসতার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়া দেশটির পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। হত্যাকাণ্ডগুলোর তদন্তে কোনো প্রচেষ্টা বাদ দেওয়া হবে না বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তবে দুর্নীতি ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে দেশটির আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নানা সমস্যায় রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতি ১০টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে মাত্র একটির রহস্য উদ্ঘাটিত হয়।

এসএস