Image description

রংপুরের মিঠাপুকুরে এক গৃহবধূকে পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্বামী মোঃ আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত পক্ষ ভুক্তভোগীর পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ মামলা দায়ের করেছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী নারী মিঠাপুকুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কানুদাস পাড়া গ্রামের সাইদুল প্রধানের মেয়ে। প্রায় তিন মাস আগে ছোট হযরতপুর গ্রামের নওশা মিয়ার ছেলে মোঃ আব্দুর রহিম তাকে তালাক দেন। তাদের একটি ১০ মাস বয়সী সন্তান রয়েছে। তালাকের পর থেকে ভুক্তভোগী নারী তার সন্তানসহ বাবার বাড়িতে থাকছেন।

জানা যায়, তালাকের পরও আব্দুর রহিম মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে সন্তানকে দেখার অজুহাতে তিনি ভুক্তভোগীর বাড়ির সামনে আসেন। পরে কৌশলে তাকে দাদির বাড়ির একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ঘটনার পরদিন সকালে দ্রুত বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে চাইলে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। তবে অভিযুক্তের বাবা মিঠাপুকুর থানায় মিথ্যা অপহরণের অভিযোগ দায়ের করে পুলিশের সহায়তায় তাকে ছাড়িয়ে নেন।

এরপর অভিযুক্ত পক্ষ ভুক্তভোগীর পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ মামলা দায়ের করে, যাতে প্রকৃত অপরাধ আড়াল করে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে হয়রানি করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী নারী মিঠাপুকুর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন। কিন্তু মামলা দায়েরের ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করা হয়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তিনি প্রকাশ্যে বাড়িতে অবস্থান করছেন, যা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত পক্ষ আইনকে ফাঁকি দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। তারা ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, ধর্ষণ ও অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।