Image description

পটুয়াখালী শহরের কলাতলা এলাকায় ছোট ভাইয়ের বন্ধুদের সঙ্গে বিরোধের জেরে হামলার শিকার হয়ে খন্দকার নাহিদ (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত নাহিদ পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি এবং শহরের কলাতলা এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় নিহতের মা নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মোঃ মাহিন (২৩), মোঃ নাহিদ (২৩), মোঃ তুষার আহমেদ হৃদয় ছোটন (২২) ও সাইফুল ইসলাম হীরা (২৩)।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত নাহিদের ছোট ভাই খন্দকার ফাহিম ঢাকার ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র। মাস দুয়েক আগে তার সহপাঠী ও পটুয়াখালীর বন্ধু মাহিনের সঙ্গে একটি বিষয়ে বিরোধ তৈরি হয়। ওই বিরোধের জেরে গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে মাহিনের বন্ধু ইমনের সঙ্গে দুই ভাইয়ের ঝগড়া হয়। তখন ইমন তার বন্ধুদের নিয়ে দুই ভাইকে মারধর করলে স্থানীয়রা তাদের ছাড়িয়ে দেন।

পরদিন ৩১ ডিসেম্বর বিকেলে নাহিদ যখন তার কর্মস্থল কলাতলা এলাকার ‘হোয়াইট হাউজ’ ভবনে টাইলসের কাজ করছিলেন, তখন মাহিন তার ১০-১১ জন সহযোগী নিয়ে সেখানে গিয়ে নাহিদের সঙ্গে তর্কে জড়ায়। একপর্যায়ে তারা নাহিদকে ঘিরে ধরে ক্রিকেট ব্যাট, স্ট্যাম্প ও লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়ি পেটাতে শুরু করে। মূল অভিযুক্ত মাহিন ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে নাহিদের মাথায় সজোরে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে নাহিদের মা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “নিহতের মায়ের দায়ের করা মামলায় আমরা ইতোমধ্যে চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। 

মানবকণ্ঠ/ডিআর