Image description

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। শীত মৌসুমে সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে এবং কোনো ঝড়-বৃষ্টি না থাকলেও, কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই দিনের পর দিন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী লোডশেডিং দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। দিনের বেলায় একাধিকবার এবং সন্ধ্যা নামলেই বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমানে বোরো মৌসুম চলায় জমিতে পানি সেচের কাজ ব্যাহত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর পড়াশোনার মূল সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, সামনে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং গৃহস্থালি কাজেও নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের।

এ বিষয়ে মাধবপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ইউসুফ আলী বলেন, “বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে আমরা চেষ্টা করছি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রকৃত কারণ জানতে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জিল্লুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “জেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। মূলত এই বিশাল ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।”

এলাকাবাসী অবিলম্বে অকারণে লোডশেডিং বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর