রাজবাড়ীতে নিজ ঘর থেকে বিতাড়িত বৃদ্ধ বাবা-মা, চারপাশে বেড়া দিলেন ছেলে
রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নে এক মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। নিজের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে গড়া পাকা বাড়ি থেকে বৃদ্ধ বাবা ও সৎ মাকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বাবা-মা যাতে বাড়িতে প্রবেশ করতে না পারেন, সেজন্য বাড়ির চারপাশ টিনের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধের নাম আইয়ুব আলী। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি। দীর্ঘদিন রাজমিস্ত্রির কাজ করে তিলে তিলে সঞ্চয় করা অর্থ দিয়ে তিনি একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ সেই বাড়িতেই তাঁর ঠাঁই নেই। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি ও তাঁর স্ত্রী আলমা বেগম এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। নিজের গড়া ঘরের সামনে গিয়ে দেয়ালে হাত রেখে ডুকরে কাঁদতে দেখা গেছে এই বৃদ্ধকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথম স্ত্রী মালেকা বেগম মারা যাওয়ার পর দুই সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আইয়ুব আলী। সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি কষ্টের উপার্জনে ঘরটি তুলেছিলেন। আইয়ুব আলীর অভিযোগ, তাঁর ছেলে মামুন ঢাকায় থাকাকালীন বাবার মাধ্যমে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন। পরবর্তীতে সেই ঋণের দায় বাবার ওপর চাপিয়ে দেন মামুন। টাকা পরিশোধ করতে না পারার অজুহাতে তিনি বাবা-মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
ভুক্তভোগী দম্পতি জানান, ঘর হারিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ছেলে মামুন তাতে উপস্থিত হননি। প্রতিকার পেতে আইয়ুব আলী আদালতের দ্বারস্থ হলেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি। উল্টো তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাড়িতে গেলে সদর দরজা তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাজবাড়ীর বানীবহ এলাকার একটি কাপড়ের দোকানে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করেন, একজন বাবার তিলে তিলে গড়া স্বপ্ন থেকে তাঁকে এভাবে বঞ্চিত করা কেবল অপরাধই নয়, বরং চরম সামাজিক অবক্ষয়।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments