Image description

বদলির আদেশ এবং সদর দপ্তরে সংযুক্তির পরও ময়মনসিংহ হাইওয়ে পুলিশ রিজিয়নের পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী মো. ছোয়াইব তাঁর কার্যালয় ছাড়ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভাগীয় আদেশ অমান্য করে তিনি এখনো জোরপূর্বক নিজের পদে বহাল রয়েছেন। এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির দাপ্তরিক কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং শৃঙ্খলা পরিপন্থি আচরণের অভিযোগে তাঁর অফিসের বাজেট ও বরাদ্দ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৫ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এসপি ছোয়াইবকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে বদলি করা হয়। এরপর ২০ এপ্রিল গাজীপুর রিজিয়নের এসপি মোহাম্মদ রহমত উল্লাহকে ময়মনসিংহ হাইওয়ে রিজিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব হস্তান্তর না করে এসপি ছোয়াইব কর্মস্থলে অবস্থান করায় গত ১৯ এপ্রিল হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁকে ঢাকায় সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু অসুস্থতার অজুহাতে তিনি এখনো ময়মনসিংহে অবস্থান করে নিয়মিত অফিস করছেন।

অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এসপি মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ জানান, "আমি লিখিতভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়নি। তিনি আমার জুনিয়র হওয়ার পরও সরকারি আদেশ মানছেন না। অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে আমি সেখানে যাচ্ছি না, তবে দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। সদর দপ্তর তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।"

এদিকে বদলির আদেশ হওয়ার পর এসপি ছোয়াইবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বদলি আদেশের পর তিনি বিধি বহির্ভূতভাবে ৭৭ জন পুলিশ সদস্যকে বদলি করেছেন। এসব বদলি বাণিজ্যে জনপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ভুয়া রেকার বিল তৈরি, জ্বালানি তেল চুরি, থানা থেকে মাসোয়ারা আদায় এবং সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসপি ছোয়াইব নগরীর খাগডহর এলাকার 'দুবাই স্টোর' নামক একটি দোকানের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লেনদেন করেন। দোকানের মালিক হাজী মো. শামসুল আলম লেনদেনের সত্যতা স্বীকার করে জানান, এসপি তাঁর দোকানের মাধ্যমে নিয়মিত বিকাশ ও নগদে টাকা লেনদেন করেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রনজয় চন্দ্র মল্লিক বলেন, "স্যার (এসপি ছোয়াইব) সব নিজের মতো করছেন, কাউকে কোনো অনুলিপি দিচ্ছেন না। সদর দপ্তর থেকে আমাদের মৌখিকভাবে বলা হয়েছে তাঁর কোনো নির্দেশনা না মানতে। তাঁর অনড় অবস্থানের কারণে অফিসের স্টেশনারি ও তেল বরাদ্দ বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।"

অভিযুক্ত এসপি কাজী মো. ছোয়াইব তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমার বদলি ও সংযুক্তির আদেশ বিধিসম্মত হয়নি। আমি সচিব বরাবর আবেদন করেছি। সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাব। বদলিগুলো নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর