সুন্দরবনে জোড়া অভিযানে দস্যুদের কবল থেকে ২১ জেলে উদ্ধার, অস্ত্র জব্দ
সুন্দরবনে পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে দুর্ধর্ষ ‘দয়াল বাহিনী’ ও ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র হাতে জিম্মি থাকা ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। অভিযানকালে দস্যুদের ব্যবহৃত আস্তানা থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২১ মে) পৃথক সময়ে অভিযান দুটি পরিচালিত হয়।
প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে খুলনার কয়রা থানাধীন আন্দারমানিকের টোটা ও কেওড়াতলা খাল এলাকায়। দয়াল বাহিনীর সদস্যরা জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রার একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা বনের গহীনে পালিয়ে গেলেও সেখান থেকে জিম্মি থাকা ১০ জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয় একই দিন বিকেল ৫টার দিকে খুলনার দাকোপ থানাধীন শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল এলাকায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি দল সেখানে কুখ্যাত ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র আস্তানায় হানা দেয়। এ সময় দস্যুরা কোস্ট গার্ডকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় আভিযানিক দল। একপর্যায়ে দস্যুরা পিছু হটে গভীর বনে পালিয়ে যায়। পরে ওই আস্তানা থেকে একটি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ এবং জিম্মি থাকা আরও ১১ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, উদ্ধারকৃত জেলেদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে এ ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments