জামালগঞ্জে জলাবদ্ধতায় বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত, বর্গাচাষিদের নেই ঈদের আনন্দ
পবিত্র ঈদুল আজহা দোরগোড়ায়। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার হাটবাজারগুলোতে এখন কেনাকাটার ধুম থাকার কথা থাকলেও বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। গত কয়েক বছরের তুলনায় কোরবানির পশুর হাট ও কাপড়ের দোকানগুলোতে বেচাকেনা নেই বললেই চলে। চলতি বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক ও বর্গাচাষিদের ঘরে এখন ঈদের আনন্দের বদলে হাহাকার বিরাজ করছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, এ অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বোরো ধান। ধান বিক্রি করেই মানুষ কোরবানির পশু, নতুন জামাকাপড় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনেন। কিন্তু এবার আগাম বৃষ্টিতে হাওরের এক-চতুর্থাংশ ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বর্গাচাষিরা। হাতে টাকা না থাকায় ঈদের বাজারে এর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র বর্গাচাষির সংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার এবং ভূমিহীন পরিবার রয়েছে ৪ হাজার ৩৪৭টি।
ভীমখালী ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক মুসলিম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, "৫৬ হাজার টাকায় ৭ বিঘা জমি বর্গা নিয়েছিলাম। বৃষ্টির কারণে মাত্র তিন বিঘার ধান কাটতে পেরেছি, বাকি সব পানির নিচে। শ্রমিক আর নৌকার খরচ মিটিয়ে হাতে কিছুই নেই। ছেলে-মেয়েদের ঈদের কাপড় দেব কীভাবে আর সারাবছর খাব কী, তা নিয়ে অন্ধকারে আছি।"
একই সুর বেহেলি ইউনিয়নের বর্গাচাষি ফজর আলীর কণ্ঠেও। তিনি বলেন, "ঋণ করে জমি চাষ করেছিলাম। ভেবেছিলাম ধান বিক্রি করে ঋণ শোধ করব। কিন্তু এখন সন্তানদের জন্য কিছুই কিনতে পারিনি। আমাদের ঈদ এবার শেষ।" এমনকি কিশোর আব্দুর রহিম সানাউল্লাহর মতো অনেকেরই এবার নতুন জামা ছাড়া ঈদ কাটবে।
সাচনা বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী ওয়াহিদুল ইসলাম ও মনিহারি ব্যবসায়ী কিবরিয়া জানান, ঈদের আর মাত্র তিনদিন বাকি থাকলেও ক্রেতার দেখা নেই। মানুষের আর্থিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তারা বিলাসিতা তো দূরের কথা, প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, পশুর খাদ্যের দাম বাড়ায় কোরবানির পশুর দামও এবার চড়া, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মিনহাজুল ইসলাম বলেন, "হাওরে ফসলহানির কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইতিমধ্যে ৫ হাজার ১০৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। প্রত্যেককে দ্রুত ৩ হাজার টাকা ও ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। এই প্রণোদনা পেলে কৃষকরা কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments