পটুয়াখালীতে মধ্যযুগীয় কায়দায় গৃহবধূকে নির্যাতন, স্বামী ও শ্বশুর আটক
পটুয়াখালীর দশমিনায় লিপি বেগম (২৮) নামের এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতনের পর টমটমে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১০ জুন) সকালে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী লিপি বেগম ওই এলাকার শাহজামালের প্রথম স্ত্রী।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে গৃহবধূ লিপিকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের পর একটি ব্যাটারিচালিত টমটমে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তার স্বামী শাহজামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধা। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং মামলা-হামলার ভয় দেখান। স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহজামালের এক ভাই পুলিশে কর্মরত থাকায় সেই প্রভাব খাটিয়ে পরিবারটি এলাকায় প্রায়ই সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করত।
এদিকে, নির্যাতনের হাত থেকে ওই গৃহবধূকে রক্ষা করতে গিয়ে অভিযুক্তদের হামলায় হেলাল মৃধা নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামী শাহজামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে আটক করে। তবে অভিযুক্ত পরিবারটি নির্যাতনের সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, "প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পারিবারিক কলহ বলে মনে হচ্ছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments