কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের (পিআইও) আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় পর্যায়ের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। জুন ক্লোজিংয়ের অজুহাতে টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) ও কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির কাজ নামমাত্র সম্পন্ন করে প্রকল্পের সিংহভাগ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও প্রকল্প সভাপতিদের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ফুলবাড়ী উপজেলায় টিআর-এর ২২টি প্রকল্পে ৩৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা, কাবিটার ২১টি প্রকল্পে ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এবং কাবিখার ১৬টি প্রকল্পে প্রায় ৬৬ মেট্রিক টন চাল ও গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। অধিকাংশ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে কোনো সাইনবোর্ড বা কাজের বিবরণ পাওয়া যায়নি। এমনকি স্থানীয় বাসিন্দারাও এসব উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে কিছু জানেন না।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সিরাজুদ্দৌলা। তার বিরুদ্ধে এর আগেও উলিপুরে থাকাকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই বিল উত্তোলনের দায়ে শাস্তিমূলক বদলির রেকর্ড রয়েছে। ফুলবাড়ীতে যোগদানের পর থেকেই তিনি অনিয়মের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রকল্প চেয়ারম্যান জানান, চেক উত্তোলনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদকে ২০ শতাংশ এবং পিআইও-কে প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা হারে ঘুষ দিতে হয়। এরপর মাস্টাররোল খরচ সামলে কাজের মান বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে নাওডাঙ্গা, শিমুলবাড়ী, বড়ভিটা ও ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, সিসিকরণ রাস্তা ও ইউড্রেন নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের ইটের খোয়া, বালু ও সামান্য সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কেবল রাস্তা পরিষ্কার করে বা নামমাত্র মাটি ফেলেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রহিম শেখ ও মতিউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কাগজে কলমে শতভাগ কাজ দেখিয়ে সরকারের টাকা লুট করা হচ্ছে, অথচ বাস্তবে এলাকার কোনো উন্নয়ন হয়নি।"
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দিলারা আকতার বলেন, "ব্যক্তিগতভাবে সব প্রকল্প দেখা সম্ভব নয়। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান জানান, প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পগুলোতে অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে তদন্ত করা হয়েছে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের অনিয়মের বিষয়ে পুনরায় অভিযোগ পেলে তদন্ত টিম গঠন করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনিয়মের বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সিরাজুদ্দৌলার মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments