Image description

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। জেলার অন্তত ৪০টি ইউনিয়নের প্রায় ২০০টি গ্রাম বর্তমানে প্লাবিত। এতে প্রায় ৬ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে জেলায় এখন পর্যন্ত ২২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও, মহেশখালী ও উখিয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলে। মৃতদের মধ্যে পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনাই প্রধান। এছাড়াও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

বিপর্যয় মোকাবিলায় জেলা জুড়ে প্রায় ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গতদের সহায়তায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক এম. এ. মান্নান জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। নদীর পানি কিছু জায়গায় কমতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এখনও কাটেনি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি এখনও কাটেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্যায় জেলার কৃষি, মৎস্য ও সড়ক যোগাযোগের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্ধ রয়েছে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর