Image description

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের চরম অবহেলায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সমন্বিত উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে ২৫৩ জন শিক্ষার্থী। উপজেলার গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. সেলিম তালুকদার।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপবৃত্তির জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির ১২৪ জন এবং সপ্তম শ্রেণির ১২৯ জনসহ মোট ২৫৩ জন শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিদ্যালয়ে জমা দিয়েছিল। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিল্টন তালুকদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনগুলো অনলাইনে সংশ্লিষ্ট পোর্টালে এন্ট্রি ও দাখিল করেননি। ফলে চূড়ান্ত তালিকায় এসব শিক্ষার্থীর নাম ওঠেনি।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ভক্তি বিশ্বাস ও তিথি সেন জানায়, তারা নিয়ম অনুযায়ী সব কাগজপত্র জমা দিলেও বিদ্যালয়ের গাফিলতির কারণে টাকা পায়নি। অভিভাবক অসীম বিশ্বাস ও কার্তিক বাইন আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। উপবৃত্তির টাকা পেলে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ ও পরীক্ষার ফি দিতে সুবিধা হতো। শিক্ষকের অবহেলায় এখন আমাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।”

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সাংবাদিকরা বিদ্যালয়ে পৌঁছালে প্রধান শিক্ষক মিল্টন তালুকদার তড়িঘড়ি করে বিদ্যালয় থেকে সটকে পড়েন। পরে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিপ্র দেব বিশ্বাস ও অফিস সহায়ক গণেশ টিকাদার জানান, প্রধান শিক্ষক কিছুক্ষণ আগেও স্কুলে ছিলেন, কিন্তু সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি কোথায় গেছেন তা তারা জানেন না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম তালুকদার বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার ফোন ও ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করার তাগাদা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কেন তিনি তা করেননি, তা বোধগম্য নয়। বিষয়টি আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।”

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, “গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অবহেলার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত করা একটি বড় অপরাধ। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর