নীলফামারীর ডোমারে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মা ও তাঁর দুই শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের তিনজন এবং এক চালকসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। রোববার (১২ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে জলঢাকা-ডোমার মহাসড়কের মটুকপুর ইউনিয়নের নদীয়াপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর সংবাদে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন—নদীয়াপাড়া এলাকার প্রদীপ রায়ের স্ত্রী প্রতিমা রানী (২৮), তাঁর ৮ বছর বয়সী মেয়ে বিপাশা রানী ও ৫ বছরের ছেলে যাদব। এছাড়া দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী যানের (মিথিলা) চালক পরিমল চন্দ্র (৩৬) নিহত হয়েছেন। পরিমল একই এলাকার অলি বর্মনের ছেলে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সাইদুল নামে একজনকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জলঢাকা থেকে ডোমারগামী একটি দ্রুতগতির ট্রাক পেছন থেকে যাত্রীবাহী একটি ইজিবাইককে (স্থানীয় ভাষায় মিথিলা) সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে যানটি দুমড়ে-মুচড়ে ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হয়। ঘটনাস্থলেই চালক পরিমলসহ দুই শিশু ও তাদের মা প্রাণ হারান।
নিহত প্রতিমার ননদ বাসন্তী রানী জানান, তাঁর বৌদি দুই সন্তানকে নিয়ে শিয়ালডাঙ্গি এলাকায় এক পিসাতো ভাইয়ের বিয়েতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এই ঘাতক ট্রাক তাঁদের কেড়ে নিল।
স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলীসহ অনেকে অভিযোগ করেন, এই সড়কটি অত্যন্ত সরু হওয়ার কারণে এখানে প্রতিনিয়ত প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত রাস্তাটি প্রশস্ত করা না হলে দুর্ঘটনার মিছিল আরও দীর্ঘ হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, দুজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় এবং অন্য দুই শিশু হাসপাতালে আনার কিছুক্ষণ পর মারা যায়।
ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুল্লাহ চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। নিহতের পরিবার দাহ শেষে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments