Image description

“আমাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনো রাস্তা নেই। আমরা রবিদাস সম্প্রদায়ের মানুষ বলে অনেকেই আমাদের নিচু চোখে দেখে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে গালি দেয়। কিন্তু আমাদেরও তো মানুষ হিসেবে বাঁচার অধিকার আছে।”— এভাবেই চোখের পানি মুছে দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার কথা বলছিলেন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার প্রেমনগর কংস নদীর পাড়ের রবিদাস পাড়ার এক বাসিন্দা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ১ নম্বর বাউসী ইউনিয়নের প্রেমনগর গ্রামের খাস জমিতে ১৮টি ভূমিহীন রবিদাস পরিবার বছরের পর বছর ধরে বসবাস করে আসছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই মিললেও তাদের ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো স্থায়ী রাস্তা নেই। অন্যের জমির সরু আইল বা আইলপথ দিয়ে তাদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে কোনোমতে চলতে পারলেও বর্ষাকালে এই এলাকাটি কার্যত বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়।

চলাচলের নির্দিষ্ট পথ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ রোগীরা। স্থানীয় বাসিন্দা প্রশান্ত চন্দ্র দাস ও বাসন্তী রানী রবিদাস জানান, জরুরি প্রয়োজনে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিতে হলে বা মৃতদেহ সৎকারের জন্য বের করতে হলেও অন্যের জমির ওপর দিয়ে চরম ঝক্কি পোহাতে হয়। অনেক সময় জমির মালিকরা তাদের জায়গা দিয়ে চলাচল করতে বাধা দেন এবং অপমানজনক ভাষায় কথা বলেন।

বিজন চন্দ্র দাস ও শান্তি রানী বলেন, “আমরা সরকারের কাছে কোনো রাজপ্রাসাদ চাই না, শুধু ঘর থেকে বের হয়ে মূল সড়কে যাওয়ার মতো একটি সামান্য রাস্তা চাই। বৃষ্টি হলে কাদা ভেঙে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমরা কি সারাজীবন এভাবেই বন্দি থাকব?”

এ বিষয়ে ১ নম্বর বাউসী ইউনিয়নের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মশিউর রহমান শামীম বলেন, “রবিদাস পাড়ার মানুষের চলাচলের এই তীব্র সংকটের বিষয়টি আমি অবগত আছি। তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করছি, তবে খাস জমি ও ব্যক্তিগত জমির সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।”

বিচ্ছিন্ন ও সুবিধাবঞ্চিত এই ১৮টি পরিবারের বাসিন্দাদের এখন একটাই দাবি— সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন দ্রুত হস্তক্ষাপ করে তাদের জন্য একটি চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করে দেয়, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে পারে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর