Image description

বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী ডিঙ্গি নৌকার হাটে আবারও ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। উপজেলার খেলার মাঠজুড়ে বসেছে নানা আকার ও নকশার কাঠের নৌকার পসরা। জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে আশ্বিন পর্যন্ত এই হাটে চলে নৌকা কেনাবেচার ধুম, যা স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই হাটকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। আষাঢ় মাসে বর্ষার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌকার চাহিদাও বেড়ে যায়। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের খাল-বিল ও নদীপথে চলাচল এবং ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য এই সময়ে ব্যাপক হারে নৌকা কেনাবেচা হয়।

হাটে নৌকার সমাগম প্রচুর থাকলেও গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার দাম আশানুরূপ না হওয়ায় হতাশ বিক্রেতারা। হাটে আসা নৌকা বিক্রেতা জব্বার আক্ষেপ করে বলেন, “যে নৌকা ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা, তা এখন ৫ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। হাটে প্রচুর নৌকার সরবরাহ থাকায় ক্রেতারা কাঙ্ক্ষিত দাম দিতে চাইছেন না। এবার আমরা বেশ লোকসানে আছি।”

অন্যদিকে, বাদাম ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য নৌকা কিনতে আসা স্বপন সূত্রধর জানান, গত বছরের তুলনায় এবার নৌকার দাম ক্রেতাদের নাগালে রয়েছে। এতে তার মতো সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা সুবিধা পেলেও কারিগর ও বিক্রেতারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

মানিকগঞ্জের নদী ও খালবেষ্টিত বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখনো যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং মাছ ধরার কাজে কাঠের নৌকার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এই হাটে মূলত চাম্বল, মেহগনি ও রেইনট্রি কাঠের তৈরি টেকসই নৌকা বিক্রি হয়। প্রতি সপ্তাহে একদিন ঘিওর উপজেলার খেলার মাঠে এই বিশাল নৌকার হাট বসে। সরকার এই হাটটি ইজারা দিয়ে প্রতি বছর বড় অংকের রাজস্ব আয় করে।

ঘিওরের এই ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট এখন কেবল কেনাবেচার কেন্দ্র নয়, বরং স্থানীয় সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যেরও একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক ও দর্শনার্থীরা এই শতবর্ষী নৌকার হাট দেখতে আসছেন।

বর্ষাকালে যাতায়াতের বিকল্প না থাকায় সামর্থ্য অনুযায়ী অনেক পরিবারই এই হাট থেকে একটি করে ডিঙ্গি নৌকা সংগ্রহ করে রাখে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর