Image description

নীলফামারীর ডিমলায় ‘স্কয়ার ক্লিনিক’ নামক একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে রাব্বিনা আক্তার নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিকার না মেলায় এবং বিচার না পাওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের বাবা রবিউল ইসলাম।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নীলফামারী শহরের একটি সাংবাদিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

রাবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, গত বছরের ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য রাব্বিনা আক্তারকে ‘ডিমলা স্কয়ার ক্লিনিকে’ ভর্তি করা হয়। সেখানে ডা. আক্তারুজ্জামান তার সিজার সম্পন্ন করেন। অপারেশনের পর থেকেই রাব্বিনার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয় এবং প্রসূতি ও নবজাতক উভয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ১১ আগস্ট তাকে রংপুরে স্থানান্তর করা হয়।

রংপুরের তালুকদার হাসপাতালে পুনরায় অপারেশন করার পর চিকিৎসকরা জানান, ডিমলা স্কয়ার ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসার কারণে রাব্বিনার নাড়িতে পচন ধরেছে। তার ১৬ ফিট নাড়ির মধ্যে ১২ ফিটই পচে যাওয়ায় তা কেটে ফেলতে হয়। দীর্ঘ নয় মাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাব্বিনা।

নিহতের বাবার অভিযোগ, উন্নত চিকিৎসা চলাকালে ডিমলা স্কয়ার ক্লিনিকের মালিক ও ম্যানেজার তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ইউএনও এই বিষয়ে চরম উদাসীনতা দেখাচ্ছেন বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিক মালিক সফিয়ার রহমান বলেন, ‘এটি এক বছর আগের ঘটনা, আমার সব সঠিক জানা নেই। আমি তো অপারেশন করিনি, চিকিৎসক বলতে পারবেন। দুই জায়গার রিপোর্ট দেখে কথা বলতে হবে।’

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের কাজ। তারপরও আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

সংবাদ সম্মেলনে রবিউল ইসলাম কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের মতো আর কোনো প্রসূতি মা যেন এমন অপচিকিৎসার শিকার হয়ে অকালে মারা না যায়।’

মানবকণ্ঠ/ডিআর