Image description

গাইবান্ধা জেলায় তিস্তা, ধরলা, ঝিঞ্জিরাম এবং ব্রহ্মপুত্র-যমুনার তীব্র নদীভাঙনে ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও খেলার মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চরাঞ্চলের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি গত দুই মাসে নদীভাঙনের শিকার হয়ে জেলার অন্তত ১০ হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে বিভিন্ন স্থানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

গাইবান্ধা জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার গাড়ামারা সিপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গুয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলার চৌমোহন, আগারীদহ ও উত্তর খাটিয়ামারী—এই তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থী পরিবারের সাথে বিভিন্ন চরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

এ ছাড়া গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের চিতুলিয়া দিঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তীব্র ভাঙনের মুখে পড়ায় শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে এবং পাঠদান প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও তিস্তার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাইবান্ধার সাঘাটা, ফুলছড়ি, সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২০টি পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত দুই মাসে অন্তত ৭ হাজার পরিবার নতুন করে ভাঙনের শিকার হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে বা অন্যের জমিতে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলোর তালিকা করা হয়েছে এবং বিকল্প পদ্ধতিতে পাঠদান চালু রাখার চেষ্টা চলছে। তবে নদীভাঙন স্থায়ীভাবে রোধ করা না গেলে চরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর