Image description

গাইবান্ধায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) একই পদে দুই নির্বাহী প্রকৌশলী অফিস করা নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড বেধেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে দ্বৈত অবস্থানের কারণে দাপ্তরিক কাজে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঠিকাদার ও সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। দ্রুত এই সংকটের সমাধান করে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে গাইবান্ধা এলজিইডি কার্যালয় ও ঠিকাদার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ দিন ধরে নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘিরে এই অচলাবস্থা চলছে। জেলা এলজিইডির প্রধান কর্মকর্তার চেয়ার নিয়ে টানাটানিতে ঠিকাদাররা তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না।

অফিস সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আব্দুল আজিজ নামের একজন কর্মকর্তা গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। তবে বর্তমান দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম তাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আমরা সেবা থেকে বঞ্চিত। আগের নির্বাহী প্রকৌশলী চেয়ার ছাড়ছেন না, আবার নতুন জনও দায়িত্ব বুঝে পাচ্ছেন না। আমরা নিয়মিত অফিসে এসেও কাজ শেষ করতে পারছি না। শোনা যাচ্ছে, বদলি ঠেকাতে লবিং চলছে। আমরা এসব বুঝি না, আমরা চাই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত সমস্যার সমাধান।"

অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও পড়েছেন বিপাকে। জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ের স্ট্যানো নিজাম উদ্দিন ও অফিস সহকারী নাছিমা আক্তার জানান, নয়টার সময় অফিস শুরু হলেও প্রায় সময় দুই কর্মকর্তার কাউকেই পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনাও পাননি।

এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মোত্তাকিন বলেন, "সদ্য নিয়োগ পাওয়া নির্বাহী প্রকৌশলীর বিষয়ে দাপ্তরিক কোনো চিঠি আমি এখনো পাইনি। তবে শুনেছি তিনি জয়েন করেছেন এবং বিভিন্ন সাইট পরিদর্শন করছেন। বিস্তারিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।"

নতুন যোগদান করা নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ বলেন, "আমি এক সপ্তাহ আগে এখানে জয়েন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত চার্জ (দায়িত্ব) বুঝে পাইনি।"

অন্যদিকে, সদ্য বদলি হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম তার অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, "গত ১৫ জুলাই বদলির আদেশ হয়েছে। আমি এখানে এসেছি মাত্র আট মাস হলো। সাধারণত ১ থেকে ৩ বছরের আগে বদলি হয় না। হঠাৎ বদলির কারণে আমার মেয়ের পড়াশোনা ও পারিবারিক বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া অফিশিয়াল অনেক তথ্য বুঝিয়ে দেওয়ারও বিষয় আছে। আমি আমার সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, তাই এখনো দায়িত্ব হস্তান্তর করিনি।"

গাইবান্ধা এলজিইডির এই 'টক অব দ্য টাউন' হয়ে ওঠা সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জেলাবাসী।

মানবকণ্ঠ/ডিআর